ব্রেথ টেস্টে গাফিলতি, বরখাস্ত পাইলট-ক্রু

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাধ্যতামূলক ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষা না করায় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের চার পাইলটসহ আটজন ক্রুকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাধ্যতামূলক ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষা না করায় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের চার পাইলটসহ আটজন ক্রুকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত দুই ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন না করায় বিষয়টি ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনকে (ডিজিসিএ) জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।

গত ২ আগস্ট দুবাই-অমৃতসর রুটের একটি এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ফ্লাইট অমৃতসরের শ্রী গুরু রাম দাস জি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্রু সদস্যদের অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে পোস্ট-ফ্লাইট ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট ঘোষণা সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু ওই ফ্লাইটের আটজন ক্রু নির্ধারিত সময়ের ৩৫ মিনিট পর পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। অর্থাৎ অবতরণের ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট পর তারা প্রক্রিয়াটি শেষ করেন। এরপরই তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপের পাইলটদের মাদক ও সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থ ব্যবহারের বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলটের ডোপ টেস্টে সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল।

এরপর এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পাইলটদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন পদার্থ বা ওষুধ ব্যবহারের বিষয়েও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ডিজিসিএর নির্ধারিত সব নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান তারা মেনে চলছে। তবে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে গ্রুপের সব পাইলটের পূর্ণাঙ্গ স্ক্রিনিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুরগাঁওয়ের প্রশিক্ষণ একাডেমির পাশাপাশি ফ্লাইট শেষে বিভিন্ন ব্রিফিং সেন্টার ও কার্যালয়েও এই পরীক্ষা চালানো হবে।

এয়ারলাইনটির ভাষ্য, প্রচলিত বিধিমালায় অনুমোদিত নয় এমন কোনো পদার্থ বা ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে। এই উদ্যোগ যাত্রী নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের মান আরও শক্তিশালী করার অংশ।

অন্যদিকে, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রধান ফ্লাইট নিরাপত্তা কর্মকর্তা পাইলটসহ সব কর্মীকে সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থ ব্যবহারের বিষয়ে স্বেচ্ছায় জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো পদার্থের ব্যবহার, অপব্যবহার, নির্ভরশীলতা বা আসক্তির বিষয় থাকলে তা জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, স্বেচ্ছা-ঘোষণার তথ্য গোপনীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিতসংখ্যক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে তা শেয়ার করা হবে।

Comments (0)
Add Comment