হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি চূড়ান্ত করতে জাপানি কনসোর্টিয়ামের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে সম্মতি দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব ভাগাভাগি, বাংলাদেশের আইন পরিবর্তনের প্রভাব, নির্মাণগত ত্রুটির দায় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তিগত সম্পর্ক। পাশাপাশি ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে আগামী ১৫ বছর নতুন কোনো প্রতিযোগী বেসামরিক বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু না করার শর্তেও সম্মত হয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে দর-কষাকষি শেষ হয়েছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এবং আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে টার্মিনালটির সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
চুক্তি মূল্যায়ন কমিটির সহসভাপতি এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, রাজস্ব ভাগাভাগিতে বেবিচকের অংশ ২৭ শতাংশের কম হবে না। তবে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগে চূড়ান্ত আর্থিক শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
সবচেয়ে আলোচিত শর্তগুলোর একটি হলো, শাহজালাল বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে আগামী ১৫ বছর কোনো প্রতিযোগী বিমানবন্দর বাণিজ্যিকভাবে চালু করা যাবে না। যদিও নতুন রানওয়ে বা বিমানবন্দর নির্মাণে আইনি বাধা থাকবে না, তবে নির্ধারিত সময়ের আগে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে না। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই শর্ত ঢাকার আশপাশে ভবিষ্যতে বিকল্প বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজস্ব বণ্টন। প্রাসঙ্গিক রাজস্বের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে পরিচালনাগত প্রস্তুতি থেকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে এই হার কার্যকর হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম এবং নিজস্ব উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে পৃথক বাণিজ্যিক নিয়ম প্রয়োগের বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। বাংলাদেশের আইন পরিবর্তন হলে চুক্তিতে তার প্রভাব এবং নির্মাণগত ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের দায় কত দিন থাকবে, সেসব বিষয়ও চূড়ান্ত চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হলেও পরিচালনা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতায় এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ থেকে বেড়ে দুই কোটিতে পৌঁছাবে।
উদ্বোধনের দিন কতটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, তা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। বেবিচক অন্তত ১০টি ফ্লাইট চালাতে চাইলেও জাপানি পক্ষের প্রস্তাব চারটি। ফলে নির্ধারিত সময়ে উদ্বোধন এবং কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।