সান ফু কুক এয়ারওয়েজের প্রথম বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন

ভিয়েতনামের সান ফুকুওক এয়ারওয়েজ প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার এক বছর পূর্ণ করেছে।

ভিয়েতনামের সান ফুকুওক এয়ারওয়েজ প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার এক বছর পূর্ণ করেছে। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর মাত্র ২২০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এয়ারলাইনটি এক বছরের ব্যবধানে ২৯টি রুটে প্রায় ২৩ হাজার ৬০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ১৬টি আন্তর্জাতিক রুট রয়েছে। এই সময়ে প্রায় ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রথম তিনটি ফ্লাইটের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়েছিল ফুকুওক দ্বীপকে কেন্দ্র করে। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর সকালে ভিয়েতনামের তিনটি প্রধান শহর হ্যানয়ের নই বাই, দা নাং এবং হো চি মিন সিটির তান সন নাত বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটগুলো ফুকুওকের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। উদ্বোধনী ফ্লাইটে ছিল ২২০ জন যাত্রী। বিমানবন্দরে উড়োজাহাজগুলোকে জলকামান অভ্যর্থনা জানানো হয়।

প্রতিষ্ঠার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও পরিচালনাগত অনুমোদন অর্জন করে এয়ারলাইনটি। ২০২৫ সালের মে মাসে বিনিয়োগ পরিকল্পনার অনুমোদন পাওয়ার পর একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পায়। পরবর্তী সময়ে নিজস্ব উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাও অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রথম বছরে এয়ারলাইনটির উড়োজাহাজের সংখ্যা তিন থেকে বেড়ে ২২টিতে দাঁড়িয়েছে। বহরে রয়েছে দুটি প্রশস্ত দেহের এয়ারবাস এ৩৩০। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রযুক্তি, উড়োজাহাজ লিজ ও পরিচালন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সহযোগিতা গড়ে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৬ সালের মার্চে ফুকুওক-তাইপে রুট চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ইউরোপে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদনও পায় তারা।

দীর্ঘপাল্লার রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বোয়িংয়ের সঙ্গে ৪০টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার কেনার চুক্তি ঘোষণা করে এয়ারলাইনটি। প্রায় ২২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের এই উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩১ সাল থেকে শুরু হওয়ার কথা। এ ছাড়া ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বহরে ৩৩টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

যাত্রীসেবার ক্ষেত্রেও স্বীকৃতি পেয়েছে সান ফুকুওক এয়ারওয়েজ। ভিয়েতনামের সময়নিষ্ঠ তিনটি এয়ারলাইনসের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান করার পাশাপাশি স্কাইট্র্যাক্স ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ এশিয়ার সেরা অবকাশযাপন এয়ারলাইন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বের সেরা ১০০ এয়ারলাইনসের তালিকায় ৯৯তম এবং সবচেয়ে উন্নত এয়ারলাইনসের তালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে।

এদিকে, ২০২৭ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলন আয়োজনকে সামনে রেখে ফুকুওক দ্বীপের বিমানবন্দর অবকাঠামো সম্প্রসারণ চলছে। নতুন রানওয়ে, দ্বিতীয় টার্মিনাল এবং বিমানবন্দর থেকে সম্মেলনকেন্দ্র পর্যন্ত রেল যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে।

এয়ারলাইনটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বহরে ৫৮টি, ২০৩০ সালে প্রায় ১০০টি এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফুকুওক দ্বীপকে বিশ্বের আরও বেশি গন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

Comments (0)
Add Comment