শাহজালালে ৫ কোটি টাকার সোনার ডিম জব্দ

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ছয়টি সোনার ‘ডিম’ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ছয়টি সোনার ‘ডিম’ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ করা সোনার মোট ওজন ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম। এর মধ্যে তিনটি সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়েছে আবুধাবিগামী এক যাত্রীর কাছ থেকে। বাকি তিনটি পাওয়া গেছে বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায়।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জব্দ করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানটি পরিচালনা করা হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিজি-১২৭ ফ্লাইটে সোনা পাচারের তথ্য পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ফ্লাইটটির সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

অভিযানের সময় সন্দেহভাজন এক যাত্রীকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করেন কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে ওই যাত্রীর কাছ থেকে ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম ওজনের তিনটি সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সোনাগুলো দেশের বাইরে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল।

একই সময়ে বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় পৃথক অভিযান চালান কাস্টমস গোয়েন্দারা। এ সময় সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও তিনটি সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এসব সোনার ওজনও ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম। সব মিলিয়ে দুটি অভিযানে ছয়টি সোনার ডিম জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা সোনাগুলো আগে আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। তবে দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেগুলো আবার আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ কারণে সোনাগুলো বাংলাদেশ থেকে পুনরায় বিদেশে পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, জব্দ করা সোনার প্রকৃত উৎস, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা এবং সম্ভাব্য চোরাচালান চক্রের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এই চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Comments (0)
Add Comment