হজে দুইটি নয়, একটি সরকারি প্যাকেজের চিন্তা-ভাবনা

এতদিন হজে দুই ক্যাটাগরির সরকারি প্যাকেজ থাকলেও আগামী বছর হতে একটি প্যাকেজ করার চিন্তাভাবনা করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীতে আবাসন নিয়ে ক্ষোভ এবং দুই প্যাকেজে দুই রকম সেবায় বড় ধরনের বৈষম্য নিয়ে হাজি সাহেবদের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হাফিজ উদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) নেতাসহ সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

২০১৭ সালে পবিত্র হজে গমনেচ্ছুদের জন্য প্রাক-নিবন্ধন শুরু হবে আগামী ১৫ জানুয়ারি। গত সেশনে প্রাক নিবন্ধন করেও প্রায় ৪০ হাজার মানুষ হজে যেতে পারেননি। তারা অগ্রাধিকারভিত্তিতে এবার হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। গত বছর সরকারি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ১ লাখ ১ হাজার ৮২৯ জন হজ পালন করেন। তবে হজ পালন করতে ইচ্ছুক মোট প্রাক নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। প্রাক-নিবন্ধন করেও বাকিরা হজে যেতে পারেননি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুল জলিল জানান, প্রাক-নিবন্ধন শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি। এরপর হজ পালন পর্যন্ত সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবধরনের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে। সরকারিভাবে পৃথক দুটি প্যাকেজের বদলে একটি প্যাকেজ করার চিন্তাভাবনা চলছে। এ লক্ষ্যে কমিটিও হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। মো. আবদুল জলিল জানান, ‘এ’ ও ‘বি’ দুই ক্যাটাগরির হজ প্যাকেজের টাকার পার্থক্য প্রায় ৪০ হাজার। মূলত কাবা শরীফের কাছাকাছি বাড়ি ভাড়া করার জন্য দুটি প্যাকেজ করা হয়। কিন্তু কাবা শরীফের সংস্কারজনিত কারণে শুধুমাত্র পবিত্র মক্কা নগরী সংলগ্ন পাঁচ তারকা হোটেল ছাড়া কাছাকাছি যে বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায় তা অনেক পুরনো ও ব্যবস্থা উন্নত নয়। ফলে ‘এ’ প্যাকেজের আওতায় যে সকল হাজি গিয়েছেন তারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। অন্যদিকে ‘বি’ ক্যাটাগরির প্যাকেজে যারা গিয়েছেন তারা দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করলেও তাদের ভাড়া বাড়ির মান উন্নত ছিল। এ সব বিবেচনায় একটি প্যাকেজে চিন্তা করা হচ্ছে।

২০১৬ সালে সরকারিভাবে যারা হজে গেছেন তাদের নিকট থেকে ‘এ’ ক্যটাগরির প্যাকেজ বাবদ নেয় হয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার। আর ‘বি’ প্যাকেজ ছিল ৩ লাখ ৫ হাজার টাকায়। কোরবানির জন্য প্রতিটি প্যাকেজে অতিরিক্ত সাড়ে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরির প্যাকেজে সৌদি আরবের ভিসা, বিমানে যাওয়া-আসা, মক্কায় কাবা শরিফ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ মিটার ও মদিনায় মসজিদে নববী থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিটারের মধ্যে তাসরিয়াযুক্ত (সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের যাচাই করা বাসস্থান) বাসায় থাকার ব্যবস্থার কথা বলা হয়। ‘বি’ ক্যাটাগরির প্যাকেজে সৌদি আরবের ভিসা, বিমানে যাওয়া-আসা, মক্কায় কাবা শরিফ থেকে সর্বোচ্চ দুই কিলোমিটার ও মদিনায় মসজিদে নববী থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ মিটারের মধ্যে তাসরিয়াযুক্ত বাড়িতে আবাসন খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আশকোনার হজ ক্যাম্পে প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন ধর্মমন্ত্রী ।

Comments (0)
Add Comment