নভো এয়ারের কর্মকর্তা আরিফিন ইসলাম জানান, বরিশাল-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় লোকসান হয়। তাই ৩১ ডিসেম্বর থেকে এ রুটে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। এ রুটে প্রতি ফ্লাইটে দেড় লাখ টাকার বেশি হয় না। কিন্তু ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আট লাখ টাকার মতো আয় হয়। তাই এ রুটের ফ্লাইট কক্সবাজার রুটে পরিচালনা করা হচ্ছে।
এদিকে নভো এয়ারের পক্ষ থেকে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখার বিষয়টি বরিশাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানায়নি। বিষয়টি মৌখিকভাবে জানালেও আর্থিক লোকসানের কথা উল্লেখ করা হয়নি। বরিশাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে শুধু এটুকু জানানো হয়, বিমান সংকটের কারণে আপাতত এ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানতে চাইলে বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হানিফ গাজী বলেন, নভো এয়ার কর্তৃপক্ষ বিমান বন্ধের বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেনি। শুধু মৌখিকভাবে জানিয়েছে। এপ্রিল মাসে আবার তারা এ রুটের ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যাত্রীর চাপ রয়েছে। তাই যাত্রী সংকটে আর্থিক ক্ষতির কারণে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার কথা নয়।’
যাত্রীদের আশংকা এভাবে যাত্রী সংকট ও লোকসানের অজুহাত তুলে ইউএস বাংলা ও বাংলাদেশ বিমানও ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দিতে পারে। এতে বিদেশী পর্যটকসহ ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়বে। কোনোভাবে যেন এ রুটে বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখা না হয় সে চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য বিমানমন্ত্রীকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন যাত্রী।
তবে ইউএস বাংলার একজন এক্সিকিউটিভ অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তাদের ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখার আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। এ রুটে তাদের ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকবে। বরিশাল জনস্বার্থরক্ষা কমিটির সদস্য সচিব মুনাওয়ারুল ইসলাম ওলি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ বিমান ও বেসরকারি দুই সংস্থা যখন ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। তখন থেকে বরিশালের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ সহজ হয়। পর্যটনের বিপ্লব ঘটে। ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হলে বরিশাল ফের অন্ধকারে পড়বে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, যাত্রী না থাকলে চলবে কেন? যাত্রীকে চাইতে হবে। যাত্রীরা চাইলে বিমান চলাচল বন্ধ হবে না।