হজ প্যাকেজে কয়েকটি শর্তের শিথিলতা চায় হাব

হজ প্যাকেজে কয়েকটি শর্তের শিথিলতা চায় হাব।

বিমান ভাড়া কমানোর মতো হজ প্যাকেজে আরো কয়েকটি বিষয়ে শিথিলতা চায় হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ও মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়ার টাকা এজেন্সির অ্যাকাউন্টে ব্লক না করা তার অন্যতম। কোনো কারণে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর বিমান টিকিট কাটা না হলে ওই টাকা ফেরত পেতে পরে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রেও একই রকমের সমস্যার মুখে পড়তে হয় এজেন্সিগুলোকে। এতে তারা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। হাব কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হজ প্যাকেজের এসব বিষয়ে শিথিলতা আরোপের অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাবের পক্ষ থেকে অন্যান্য সুপারিশের সাথে এই দু’টি বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাবের একাধিক নেতা।
হাবের মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিমের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাবের যৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করেছে। তেমনিভাবে চলতি বছরের হজ প্যাকেজে আমরা দু-একটি বিষয়ে শিথিলতাসহ আমাদের কয়েকটি অনুরোধ থাকছে। তিনি বলেন, মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের বাড়িভাড়ার টাকা এজেন্সির অ্যাকাউন্টে জমার শর্ত ঠিক রাখা হোক; কিন্তু তা কোনোভাবেই যাতে ব্লক করা না হয়। ব্লক করলে এজেন্সিগুলো তাদের সুবিধামতো বাড়িভাড়া করতে অসুবিধা হয়। এই টাকাও আইবিএএনের (আন্তর্জাতিক ব্যাংক হিসাব নম্বর) মাধ্যমে পাঠানোর শর্তারোপ করা হলে এজেন্সিগুলো বিপাকে পড়ে। তিনি বলেন, বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রেও এই ব্লক সিস্টেমের কারণে এজেন্সিগুলোকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার মধ্যে বাড়িভাড়ার বিষয়টি অনেকটাই জটিল। হজ এজেন্সিগুলো আল্লাহর মেহমান হাজীদের সেবার জন্য প্যাকেজ অনুযায়ী সবচেয়ে সুবিধাজনক বাড়িভাড়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে। এ ক্ষেত্রে এজেন্সির অ্যাকাউন্টের টাকা ব্লক ও আইবিএএনে পাঠানোর শর্তারোপ করা হলে এজেন্সিগুলো অনেক সময় জটিলতায় পড়ে।
এজেন্সি মালিকেরা জানান, হজ ব্যবস্থাপনায় এজেন্সিগুলোর সেবার পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ বাড়িভাড়ার সাথে বিশেষভাবে জড়িত। এ জন্য এজেন্সিগুলো সুবিধাজনক বাড়িভাড়ার জন্য সময় ও সুযোগের অপেক্ষা করে থাকে। এই ক্ষেত্রে বিশেষ শর্তারোপ করা হলে এজেন্সিগুলো অনেক সময় ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখেও পড়ে। দেখা যায়, বিমান ভাড়া ব্লক করে দেয়ার কারণে পরে কোনো যাত্রী না গেলে ওই যাত্রীর বিমান ভাড়ার টাকা ওঠাতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হওয়াসহ বিভিন্ন জটিলতার মুখে পড়তে হয়। একইভাবে বাড়িভাড়ার জন্য দেখা গেল কেউ যে পরিমাণ টাকা আইবিএএনে পাঠাল তার সব টাকা লাগল না। তখন বাকি টাকা ফেরত পেতে জটিলতা সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাবের এক নেতা বলেন, দেখা যায় কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে ছোটখাট কোনো অভিযোগ এলো; তখন ধর্ম মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে ব্লক করা কোনো টাকার ছাড়পত্র দিতে চায় না। মোয়াল্লেম ফির অব্যবহৃত টাকা ফেরত পেতেও এজেন্সিগুলোকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ দিকে চলতি বছরের হজ প্যাকেজ আগামী মাসের মাঝামাঝি ঘোষণা হতে পারে। এখনো প্যাকেজের খসড়া তৈরি হয়নি বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ১০ হাজার ১৯১ টাকা কমিয়ে এক লাখ ২৮ হাজার টাকা করার পর এখন ধর্ম মন্ত্রণালয় অন্যান্য ব্যয়ের সমন্বয় করে প্যাকেজ তৈরি করতে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা। আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভায়ও হজ প্যাকেজ ওঠার সম্ভাবনা কম। হজ প্যাকেজের খসড়া চূড়ান্ত করার আগে হাব ও আটাবসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বয় সভা হয়। সেই সভা এখনো হয়নি। এরপরই হজ প্যাকেজ ও হজ-ওমরাহ নীতিমালা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হলেই হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। হজ ব্যবস্থাপনার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় যে শিডিউল ক্যালেন্ডার তৈরি করেছে, তাতে গত ১৫ জানুয়ারি হজ প্যাকেজ ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা ছিল। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নতুন সরকার গঠনজনিত কারণে এই শিডিউল রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
হাবের মহাসচিব জানান, হজযাত্রী ও হজ এজেন্সিগুলোর সুবিধার্থে হাব সব সময় সরকারকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। আমরা বরাবরই বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনা এবং থার্ড ক্যরিয়ারের দাবি জানিয়ে আসছি। আশা করি হজযাত্রী ও এজেন্সিগুলোর স্বার্থে সরকার বিমান ভাড়া কমানোর মতোই আমাদের বাকি পরামর্শ ও সুপারিশগুলো আমলে নেবে।
চলতি বছরে হজে যারা যাবেন তারা ইতোমধ্যেই নিবন্ধিত হয়ে গেছেন। এ বছরও গত বছরের মতোই এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী। প্রাক নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্য্যা গতকাল সোমবার পর্যন্ত দুই লাখ ৩১ হাজার ৪৭৪ এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় সাত হাজার ছয়জন। ফলে এই সিরিয়াল ঠিক থাকলে এর পরের বছরের জন্য এক লাখেরও বেশি হজযাত্রী প্রাক নিবন্ধিত হয়ে গেছেন। হজ প্যাকেজ ঘোষণা বিলম্বিত হওয়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে সমুদয় টাকা জমা দিয়ে মূল নিবন্ধনের কাজও শুরু হচ্ছে না। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি প্যাকেজ ঘোষণার পর মাসের শেষার্ধ থেকে মূল নিবন্ধন শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Comments (0)
Add Comment