নিউইয়র্কে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত, আতঙ্কে বাংলাদেশিরা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক নারীর দেহে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এ রোগ দেখা দেয়। ৩০ বছর বয়সী ওই নারী ম্যানহাটনের বাসিন্দা। নিউইয়র্কে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশির বাস। করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার ফলে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো স্থানীয় সময় গতকাল রোববার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আক্রান্ত নারীর পরিচয় প্রকাশ না করে জানানো হয়, ওই নারী ইরান সফরে গিয়েছিলেন। তবে তা বেশ আগের কথা। তিনি ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

গভর্নর জানান, আপাতত ওই নারীকে ম্যানহাটনে তাঁর নিজের অ্যাপার্টমেন্টেই রাখা হয়েছে।

তবে করোনাভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে—এমন শঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন গভর্নর ও অন্য কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, এ নিয়ে অবাক হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি প্রত্যাশিত ছিল।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্ল্যাজিও সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের নিজেদের সুরক্ষা করার জন্য সব ধরনের তথ্য দেওয়া হবে।

নগরীর স্বাস্থ্য কমিশনার অক্সিরিস বারবোট বলেছেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল সমস্যাটি আমাদের কাছে আসবে না। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি ছিল। এর মধ্যেই আক্রান্ত একজনকে চিহ্নিত করা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ভয়ভীতি ও শঙ্কা থেকে বাস্তবতাকে পৃথক করে দেখা হচ্ছে।

সিটি কাউন্সিল স্পিকার কোরি জনসন বলেছেন, ম্যানহাটনে আক্রান্ত নারীকে পৃথক করে রাখা হয়েছে। ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সিটি কাউন্সিলে আগামী বৃহস্পতিবার পুরো পরিস্থিতি নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

এর আগে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে গত শনিবার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরদিন বড় বড় শপিং মলে লোকজনকে আপত্কালীন অবস্থার জন্য কেনাকাটা করতে দেখা যায়। গতকাল দুপুরের মধ্যেই বড় বড় দোকানের খাবার, পানীয়সহ জরুরি সামগ্রীর শেলফ খালি হতে দেখা যায়।

বাংলাদেশিরা শঙ্কায়
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে কয়েক হাজার বাংলাদেশি ক্যাবচালক রয়েছেন। যাচাই-বাছাই ছাড়াই জীবিকার কারণে তাঁদের সব ধরনের যাত্রী পরিবহন করতে হয়। গতকাল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজনের খবর জানার পর বাংলাদেশি ক্যাবচালক মোহাম্মদ রহমান বলেন, ‘আল্লাহর ওপর ভরসা করে কাজ করে যাচ্ছি।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান চিকিৎসক এস সারোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস নিয়ে কমবেশি সবাই আতঙ্কে। উহান থেকে এই ভাইরাস আমেরিকায় হানা দিয়েছে—তা নয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় যাঁরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের আশপাশের এলাকায় কোনো চীনা নাগরিকের বসবাস নেই বা কেউ কোনো চীনা নাগরিকের সংস্পর্শেও ছিলেন না। ইতালিতেও একই চিত্র।

ডা. সারোয়ার বলেন, জ্বর দিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়, এরপর শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। প্রায় এক সপ্তাহ পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়। যেহেতু এই ভাইরাসের উৎস এখনো অজানা, তাই এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আজ সোমবার মৃত ব্যক্তির সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। শুধু চীনেই মারা গেছেন ২ হাজার ৯১২ জন। ভাইরাসটিতে ৬০টিরও বেশি দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ হাজারেরও বেশি মানুষ।

Comments (0)
Add Comment