চুক্তিগত অচলাবস্থায় থমকে আছে ঢাকা বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু, বাড়ছে উদ্বেগ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালু নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালু নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধের কারণে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষএবং একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে চুক্তিগত অচলাবস্থা এখনো কাটেনি, ফলে নির্ধারিত সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার ডিসেম্বরেই টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তা সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ পরিচালন চুক্তি স্বাক্ষর, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করতে অন্তত আরও এক বছর সময় লাগতে পারে।
মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে টার্মিনাল চালুর পর আয় বণ্টন নিয়ে। যাত্রীসেবা, পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন খাত থেকে অর্জিত আয়ের বণ্টন কীভাবে হবে—এই বিষয়েই দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ। জাপানি কনসোর্টিয়াম যেখানে সিএএবি-কে ২৫ শতাংশ রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে কর্তৃপক্ষ আরও বেশি অংশ দাবি করছে। নয় দফা বৈঠকেও এই অচলাবস্থা দূর হয়নি।
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে যাত্রী প্রস্থান ফি, অগ্রিম অর্থ প্রদান এবং সামগ্রিক আয় বণ্টনের কাঠামো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যদি দ্রুত সমঝোতা হয়, তাহলে প্রায় তিন মাসের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব। এরপর ‘পরিচালন প্রস্তুতি ও বিমানবন্দর হস্তান্তর’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগবে।
এদিকে প্রকল্পটির আর্থিক চাপও সামনে চলে এসেছে। জুন মাস থেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে, যা ২০৫৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা হিসেবে চলবে। ফলে টার্মিনাল চালুতে বিলম্ব হলে আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman দ্রুত টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সিএএবি জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে এবং জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা না চাপিয়ে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সিএএবি চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, আলোচনা শেষ হলেও চুক্তি স্বাক্ষরে অন্তত তিন মাস সময় লাগবে। এরপর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলবে ছয় মাস থেকে এক বছর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর প্রায় ছয় মাস পর সীমিত আকারে টার্মিনাল চালু করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থানান্তর একটি অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া। বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের প্রায় ৭৪ শতাংশ স্থানান্তরই ব্যর্থ হয়। তাই তাড়াহুড়া না করে সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
টার্মিনালটির পরিচালনা করবে জাপানের চারটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম—Japan Airport Terminal Company, Sumitomo Corporation, Sojitz Corporation এবং Narita International Airport Corporation। আর নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকবে সিএএবি। প্রায় ৬ হাজার জনবল, যার মধ্যে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী, এখানে নিয়োজিত থাকবে।
প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার (২৫,৮৪৬ কোটি টাকা) ব্যয়ের এই বৃহৎ প্রকল্পটি জাপানের Japan International Cooperation Agency-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রকল্পটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও পরিচালন চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনো পুরোপুরি চালু করা যায়নি।
সব মিলিয়ে, অবকাঠামো প্রায় প্রস্তুত থাকলেও চুক্তিগত জটিলতার কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের সুফল পেতে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে।
