বাতিল এ৩৮০ই এখন সচল উড়োজাহাজের ভরসা

বর্তমানে সচল থাকা প্রায় প্রতিটি এ৩৮০ কোনো না কোনো অবসরপ্রাপ্ত উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভর করছে

একসময় ধারণা করা হয়েছিল, বিশ্বের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ এয়ারবাস এ৩৮০ খুব দ্রুতই ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে। করোনা মহামারির সময় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স তাদের বিশাল আকৃতির এই চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট উড়োজাহাজগুলো অবসরে পাঠাতে শুরু করে। কারণ তখন এ৩৮০কে ব্যয়বহুল, জ্বালানি খরচে অদক্ষ এবং পরিবর্তিত বিমানবাজারের জন্য অনুপযুক্ত মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে পরিস্থিতি বদলে যায়। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এবং নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় আবারও আকাশে ফিরতে শুরু করেছে এ৩৮০।

তবে এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে কাজ করছে একটি বিশাল ‘স্পেয়ার পার্টস ইকোসিস্টেম’। বর্তমানে সচল থাকা প্রায় প্রতিটি এ৩৮০ কোনো না কোনো অবসরপ্রাপ্ত উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভর করছে। মরুভূমি, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও বিভিন্ন রিসাইক্লিং হাবে পড়ে থাকা অবসরপ্রাপ্ত এ৩৮০ থেকে খুলে নেওয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। পরে সেগুলো মেরামত ও পরীক্ষার মাধ্যমে আবার সচল উড়োজাহাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০২৫ সালে এয়ারবাস আনুষ্ঠানিকভাবে ভিএএস অ্যারো সার্ভিসেসকে তিনটি অবসরপ্রাপ্ত এ৩৮০ উড়োজাহাজ খুলে ফেলার দায়িত্ব দেয়। ফ্রান্সের টার্বস শহরে টারম্যাক অ্যারোসেভ নামের প্রতিষ্ঠান এই কাজ করছে। ভেঙে ফেলা উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে লুফথানসা ও মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এ৩৮০। এসব উড়োজাহাজ থেকে অ্যাভিওনিক্স, ল্যান্ডিং গিয়ার, হাইড্রোলিক সিস্টেম, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে সেগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় পরিচালিত সক্রিয় এ৩৮০ বহরে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোয়িং ৭৭৭এক্স উড়োজাহাজ সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্বও এ৩৮০-এর গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন উড়োজাহাজ না পাওয়ায় পুরোনো এ৩৮০ বহর দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করছে। ফলে যন্ত্রাংশের চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুণ।

বর্তমানে এ৩৮০ শুধু একটি উড়োজাহাজ নয়, বরং বৈশ্বিক বিমান শিল্পের জন্য একটি কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত উড়োজাহাজগুলো এখন আর স্ক্র্যাপ নয়, বরং কোটি কোটি ডলারের যন্ত্রাংশ ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ও উৎপাদন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হচ্ছে। বিমান শিল্পে টেকসই ও ব্যয়সাশ্রয়ী ভবিষ্যৎ গঠনে এ৩৮০ এখন নতুন এক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.