শাহজালাল বিমানবন্দরে অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা গ্রেফতার
বিমানবন্দরে অজ্ঞান পার্টির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চেতনানাশক ট্যাবলেটসহ চক্রের মূলহোতা মো. তাজুল ইসলাম (৪৮)-কে গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অজ্ঞান পার্টির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চেতনানাশক ট্যাবলেটসহ চক্রের মূলহোতা মো. তাজুল ইসলাম (৪৮)-কে গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এই ঘটনায় বিমানবন্দর এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের অস্তিত্বও প্রকাশ পেয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রবিবার (১৭ মে) বিকেলে এপিবিএন-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস) অনিতা রানী সূত্রধর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ১৬ মে এক ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন (১৮) তার এক আত্মীয়কে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরের ডিপার্চার এলাকায় যান। সেখানে অবস্থানকালে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং এক পর্যায়ে তাকে কফি পান করায়। কফি পান করার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তার পরিবার বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করলে তদন্ত শুরু করে এপিবিএন।
মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মূলহোতা তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন এবং কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার ব্যাগ তল্লাশি করে প্রায় ১৫টি চেতনানাশক ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যা দিয়ে যাত্রীদের অজ্ঞান করার কাজে ব্যবহার করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জানান, তাদের একটি সংঘবদ্ধ দল বাস, রেলস্টেশন এবং বিমানবন্দরের মতো জনবহুল এলাকায় সক্রিয় থাকে। তারা প্রথমে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে আস্থা অর্জন করে। পরে চা, কফি বা ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে ভুক্তভোগীদের অজ্ঞান করে তাদের মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। অনেক সময় সন্দেহ এড়াতে তারা অসুস্থ বা শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তির অভিনয়ও করে থাকে, যাতে সহজেই মানুষের আস্থা অর্জন করা যায়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্রে তাজুল ইসলামসহ মোট ৪ থেকে ৫ জন সদস্য সক্রিয় রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। চুরি করা মোবাইল ফোন, টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র ঢাকার মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে সংরক্ষণ করা হতো।
পরে এপিবিএন অভিযান চালিয়ে ওই হোটেল থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৫৫টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, ১০টি এয়ারবাড হেডফোন, ১৫টি হাতঘড়ি, ৪টি চেতনানাশক ট্যাবলেট, ২টি পুরিয়া চেতনানাশক, ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা নগদ অর্থ, সৌদি রিয়াল এবং তুরস্কের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
এপিবিএন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং অজ্ঞান পার্টি, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তারা বলেন, বিমানবন্দর একটি স্পর্শকাতর এলাকা হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না।
অধিকর্তারা আরও জানান, ভবিষ্যতেও এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের এই সফল অভিযানে বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।
