দুবাইয়ে নারী পাচার চক্রের ভয়াবহতা, জিম্মি ১৪ বাংলাদেশি তরুণী

দুবাইয়ে নারী পাচার চক্রের ভয়াবহতা, জিম্মি ১৪ বাংলাদেশি তরুণী

দুবাই : দুবাইয়ে একটি আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে আছেন অন্তত ১৪ বাংলাদেশি তরুণী। সম্প্রতি এক তরুণীকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার করার পর ভয়ংকর এই চক্রের নানা তথ্য সামনে আসে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, জিম্মি নারীদের উদ্ধারে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে।

উদ্ধার হওয়া তরুণী রুপালি (ছদ্মনাম) জানান, তিন বছর আগে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে তাকে দুবাই নেওয়া হয়। রেস্তোরাঁয় কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও সেখানে পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং জোর করে ডান্স বারে কাজ করানো শুরু হয়। প্রতিদিন রাতভর বিভিন্ন ক্লাবে থাকতে বাধ্য করা হতো। অমানবিক নির্যাতন, মানসিক চাপ ও ভয়ভীতির মধ্যে কাটে তার জীবন।

রুপালির ভাষায়, “অনেক মেয়েই সেখানে কান্না করত। কেউ পালানোর চেষ্টা করলে ভয়ংকর পরিণতির মুখে পড়তে হতো। আমি চাই না, আর কোনো মেয়েকে এই বিভীষিকার মধ্যে যেতে হোক।”

তদন্তে উঠে এসেছে, কুমিল্লার আব্দুল হান্নান নামের এক ব্যক্তি এই পাচার চক্রের অন্যতম মূল হোতা। তিনি দুবাইয়ের একটি ক্লাব পরিচালনার আড়ালে বাংলাদেশি নারীদের সেখানে নিয়ে যেতেন। তার বিরুদ্ধে আগেও মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, তার চক্রের মাধ্যমে শত শত নারী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছেন।

সিআইডি জানিয়েছে, চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকার অসচ্ছল ও কম বয়সী নারীদের টার্গেট করত। ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিদেশে পাঠানো হতো। পরে পাসপোর্ট আটকে রেখে জোরপূর্বক ডান্স বার ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নারীদের পাচারের ঘটনা ঘটছে। অনেক নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরলেও সামাজিক লজ্জা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে মুখ খুলতে পারেন না।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, “বিদেশে কাজের নামে নারীদের ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এ ধরনের চক্র বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

বাংলাদেশ পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানব পাচারের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। শুধু গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ফিরেছেন, যাদের অনেকে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.