মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে কমেছে কাতার এয়ারওয়েজের মুনাফা

আকাশপথে বিঘ্ন এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কাতার এয়ারওয়েজের বার্ষিক মুনাফা কমেছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আকাশপথে বিঘ্ন এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কাতার এয়ারওয়েজের বার্ষিক মুনাফা কমেছে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তারা ধীরে ধীরে তাদের বৈশ্বিক ফ্লাইট সূচি পুনর্গঠন করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, কাতার এয়ারওয়েজ গ্রুপের নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। যদিও এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৪ কোটি ১৮ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে এবং তাদের কার্গো বিভাগ বৈশ্বিক বাজারের প্রায় ১২ শতাংশ অংশীদারিত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। একই সঙ্গে জেট ফুয়েলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় এয়ারলাইনসগুলোর ওপর। কারণ কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এবং এতিহাদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করে থাকে। আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে এসব হাবভিত্তিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।

কাতার এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে অনেক রুটে ফ্লাইট পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে এবং বিকল্প আকাশপথ ব্যবহার করায় সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়েছে। তবুও প্রতিষ্ঠানটি যাত্রীসেবা ও কার্গো কার্যক্রম সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে তাদের কার্গো বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এয়ারলাইনসটি আরও বলেছে, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাত নিরসনে কাজ করায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। ফলে তারা আবারও বৈশ্বিক ফ্লাইট নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক বিমান শিল্পের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। কারণ এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি, ফ্লাইট বিলম্ব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN