শাহজালালে চার পদ্ধতিতে কার্গো স্ক্রিনিং, সিলেটে যুক্ত হলো নতুন ইডিএস

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সাম্প্রতিক একাধিক উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নগামী রপ্তানি পণ্যের নিরাপত্তা যাচাই এখন আরও দ্রুত, কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন ডগ (ইডিডি) পদ্ধতির অনুমোদন পুনর্বহাল করা হয়েছে। এর ফলে বিমানবন্দরটিতে এখন আবারও পূর্ণাঙ্গভাবে ইডিএস, এক্স-রে, ইটিডি এবং ইডিডি—এই চার ধরনের স্ক্রিনিং পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে এবং রপ্তানিকারকদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হবে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থার্ড কান্ট্রি ইইউ অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি ভেলিডেটেড রেগুলেটেড এজেন্ট (আরএ৩) মর্যাদা অর্জন করে। এরপর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি কার্গো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে স্ক্রিনিং করা হচ্ছিল। তবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের ট্রান্সপোর্ট বিভাগ সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী কার্গোর ক্ষেত্রে ইডিডি পদ্ধতির অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয়।

পরবর্তীতে বেবিচকের ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও কারিগরি প্রচেষ্টা, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় এবং নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে এই অনুমোদন আবারও পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়েছে। এতে এখন যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি কার্গো আরও দ্রুত স্ক্রিনিং করা সম্ভব হবে এবং নতুন এয়ারলাইনসগুলোও এসিসি৩ ভেলিডেশন অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপীয় গন্তব্যে সরাসরি কার্গো পরিবহনের সুযোগ পাবে।

অন্যদিকে, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও রপ্তানি কার্গো কার্যক্রম সম্প্রসারণে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিমানবন্দরটি ২০২১ সালে আরএ৩ ভেলিডেশন অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছিল। কিছু সময় বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে সেখানে আবার নিয়মিত কার্গো অপারেশন চালু হয়।

সম্প্রতি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস) চালু হওয়ায় স্ক্রিনিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কার্গো প্রক্রিয়াজাতকরণে সময় কমবে, অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলা সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বেবিচক মনে করছে, এসব উদ্যোগের ফলে সিলেট থেকেও বৃহৎ পরিসরে সরাসরি রপ্তানি কার্গো পরিচালনার নতুন সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.