হিথ্রো ব্যাগেজ সিস্টেম বিপর্যয়ে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের
প্রায় ২০ হাজারের বেশি যাত্রী তাদের ব্যাগেজ হারানোর পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ
হিথ্রো বিমানবন্দরের লাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেমে ভয়াবহ ত্রুটির ঘটনায় প্রায় ২০ হাজারের বেশি যাত্রী তাদের ব্যাগেজ হারানোর পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ (BA)। ১৫ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়কে “গুরুতর এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী শন ডয়েল। ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য সম্প্রতি ফাঁস হলে বিমান শিল্পে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি এ বছরের মধ্যে তৃতীয় বড় ধরনের ব্যাগেজ ব্যবস্থার ব্যর্থতা। এর আগেও ইস্টার এবং হাফ-টার্ম ছুটির সময় একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজকে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা, যাত্রীদের আবাসন এবং জরুরি ব্যয় বাবদ কোটি কোটি পাউন্ড খরচ করতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যার মূল কেন্দ্র হিথ্রোর টার্মিনাল ৫-এর পুরনো টিল্ট-ট্রে ব্যাগেজ সিস্টেম, যা হঠাৎ করে সফটওয়্যার লকআপের কারণে অচল হয়ে পড়ে। যাত্রী ও ব্যাগেজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই সিস্টেমটি তার ডিজাইন ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, ফলে পুরো নেটওয়ার্কে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। হিথ্রো কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মতে, হিথ্রো তাদের প্রধান ইন্টারলাইন হাব হিসেবে কাজ করে, যা বিশ্বের প্রায় ২০০টি গন্তব্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। তাই এই ধরনের ব্যর্থতা শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও বড় প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার কারণে হাজার হাজার ব্যাগ বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়ে, যা যাত্রীদের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিমান শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনা হিথ্রোর অবকাঠামোগত দুর্বলতা আবারও সামনে এনেছে। সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (CAA) ইতোমধ্যে ভবিষ্যতে আরও কঠোর রেজিলিয়েন্স মানদণ্ড চালুর বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে আলাদা তহবিল সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা যায়।
এদিকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এই ক্ষতিপূরণ দাবি আসন্ন গ্রীষ্মকালীন স্লট আলোচনা ও বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। ভার্জিন আটলান্টিক ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাদের মতে, একটি নিয়ন্ত্রিত একচেটিয়া ব্যবস্থার কারণে বারবার এমন ব্যর্থতার দায় যাত্রী বা এয়ারলাইনসের ওপর চাপানো উচিত নয়।
ঘটনার পর অনেক কর্পোরেট ট্রাভেল ম্যানেজার তাদের যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সফরে লন্ডনের মাধ্যমে ট্রানজিট এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাগ ট্র্যাকিং ও ক্যারি-অন লাগেজ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট শুধু একটি প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং বৈশ্বিক বিমান অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
