ইরানি হামলার পর কুয়েতগামী সব ফ্লাইট বাতিল করল ইজিপ্টএয়ার
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় দুই দিনের জন্য সব ফ্লাইট বাতিল
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় দুই দিনের জন্য সব ফ্লাইট বাতিল করেছে মিসরের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ইজিপ্টএয়ার। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বুধবার (৩ জুন) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
ইজিপ্টএয়ারের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বুধবার ও বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কুয়েতগামী ও কুয়েত থেকে পরিচালিত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা মিসরের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দরকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায় বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট পরিচালনা পুনর্বিবেচনা করছে। ইজিপ্টএয়ারও একই কারণে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হামলার ঘটনায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬৩ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুরুতর আহত সাতজনের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
হামলার পর বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জরুরি সেবা, চিকিৎসা দল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজও শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আরও অনেক এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন, বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহন এবং আঞ্চলিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে ইজিপ্টএয়ার। পাশাপাশি যেসব যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তাদের বিকল্প ভ্রমণ ব্যবস্থা ও টিকিট পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
