রানওয়েতে শত শত যানবাহনে নজরদারি নেই, বাড়ছে বিমান নিরাপত্তা ঝুঁকি
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এয়ারসাইড এলাকায় চলাচলকারী শত শত যানবাহনের বড় একটি অংশ এখনও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার আওতার বাইরে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এয়ারসাইড এলাকায় চলাচলকারী শত শত যানবাহনের বড় একটি অংশ এখনও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার আওতার বাইরে থাকায় বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও এপ্রোন এলাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সেবা যান, কার্গো পরিবহন, ক্যাটারিং গাড়ি এবং গ্রাউন্ড সাপোর্ট যানবাহন চলাচল করলেও সেগুলোর অনেকগুলোতে এখনও বাধ্যতামূলক ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপন করা হয়নি।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও গ্রাউন্ড অপারেশন আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সব এয়ারলাইন্স, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান, কার্গো অপারেটর এবং সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে তাদের ব্যবহৃত যানবাহনে ভিটিএস স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছিল। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো যানবাহন কোথায় অবস্থান করছে, কত গতিতে চলছে এবং কোন পথে চলাচল করছে তা তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের যানবাহনে ট্র্যাকার স্থাপনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য বেবিচকের কাছে জমা দেয়নি। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা থাকলেও চার মাস পরও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে ভিটিএস স্থাপন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় এয়ারসাইড এলাকায় কোনো দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভিটিএস না থাকায় অতীতেও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের নভেম্বরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি পুশকার্টের ধাক্কায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজের নোজ হুইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে একটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। এছাড়া ২০২২ সালে বিমান বাংলাদেশের দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ট্রলির ধাক্কায় বিমান বাংলাদেশের একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
বেবিচক সূত্র জানায়, সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত রাডার ও সিএনএস-এটিএম প্রকল্পের আওতায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক অ্যাডভান্সড সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এ-এসএমজিসিএস) এবং ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। তবে উড়োজাহাজে প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি থাকলেও স্থলযানে আলাদাভাবে ট্র্যাকার বসানো বাধ্যতামূলক।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম দাবি করেছেন, তাদের অধিকাংশ যানবাহনে ইতোমধ্যে ট্র্যাকার স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, আধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহু বছর ধরেই এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। শাহজালালে পূর্ণাঙ্গ ভিটিএস চালু হলে এয়ারসাইড এলাকায় চলাচলকারী প্রতিটি অনুমোদিত যানবাহনের অবস্থান রাডারের মাধ্যমে পৃথকভাবে শনাক্ত করা যাবে। কোনো যানবাহন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে। এতে বিমান ওঠানামার নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
