ফায়ার অ্যালার্মে বিলম্বিত ইউএস-বাংলার চট্টগ্রামগামী ফ্লাইট
ফ্লাইট উড্ডয়নের ঠিক আগে ককপিটে অগ্নিকাণ্ডের সতর্কবার্তা (ফায়ার অ্যালার্ট) প্রদর্শিত হওয়ায় উড্ডয়ন বাতিল করতে বাধ্য হন পাইলট।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের ঠিক আগে ককপিটে অগ্নিকাণ্ডের সতর্কবার্তা (ফায়ার অ্যালার্ট) প্রদর্শিত হওয়ায় উড্ডয়ন বাতিল করতে বাধ্য হন পাইলট। পরে বিমানটি রানওয়ে থেকে নিরাপদে ফিরিয়ে এনে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। ঘটনাটি বুধবার (২৪ জুন) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্লাইটটি সকাল ৭টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে উড্ডয়নের জন্য রানওয়ের দিকে যাওয়ার সময় ককপিটের মনিটরিং সিস্টেমে ইঞ্জিন-সংশ্লিষ্ট অগ্নিকাণ্ডের সতর্ক সংকেত দেখা দেয়। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাইলট সঙ্গে সঙ্গে উড্ডয়ন বাতিল করেন এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিষয়টি জানিয়ে বিমানটি পুনরায় নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ জানান, ইঞ্জিনসংক্রান্ত একটি কারিগরি ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়ায় বিমানটি টেকঅফ পয়েন্ট থেকে ফিরে আসে। পরে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয় এবং বিমানটি বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষার জন্য হ্যাঙ্গারে পাঠানো হয়।
ঘটনার কারণে বিমানবন্দরের রানওয়ে প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য সাময়িকভাবে ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়। এ সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাত্রীদের বিমান থেকে নামানো এবং বিমানটিকে নিরাপদ অবস্থানে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরে স্বাভাবিকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ড-সংক্রান্ত কোনো সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অনেক সময় এ ধরনের সতর্কবার্তা প্রকৃত অগ্নিকাণ্ড না হয়ে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেও দেখা দিতে পারে। তবুও যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি সতর্ক সংকেত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, পাইলট প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ইউএস-বাংলা দ্রুত একটি বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করে। তবে নতুন বিমান প্রস্তুত করা, ফ্লাইট ক্রু নিয়োগ, কেটারিং স্থানান্তর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে। ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর, সকাল ৮টার দিকে বিকল্প উড়োজাহাজে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তে কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ধারণা করছেন, এটি সম্ভবত একটি প্রযুক্তিগত সতর্ক সংকেত বা ফলস অ্যালার্ম ছিল। তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উড়োজাহাজটির বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
