তৃতীয় টার্মিনালে বিদেশিদের আগ্রহে আর্থিক ক্ষতিতে পড়বে বিমান
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্নও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বিমানবন্দরের সেবার মান বাড়াতে সহায়ক হলেও এর প্রভাব পড়তে পারে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আয় ও পরিচালন সক্ষমতার ওপর।
জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের স্যাটস, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা, যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন এবং সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, কার্গো হ্যান্ডলিং, র্যাম্প অপারেশন, যাত্রীসেবা ও বিমান পরিচালনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বছরে এক কোটির কিছু বেশি যাত্রী ব্যবহার করলেও ভবিষ্যতে এ সংখ্যা দুই থেকে আড়াই কোটিতে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে কার্গো পরিবহনও বাড়বে, যা আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় বাজারে পরিণত করেছে।
বিদেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল ব্যাগেজ ট্র্যাকিং, স্মার্ট র্যাম্প ম্যানেজমেন্ট, উন্নত কার্গো পরিচালনা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হবে। এর ফলে অপারেশনাল দক্ষতা বাড়বে, বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের মধ্যবর্তী সময় কমবে এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তবে এর বিপরীতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে আসছে বিমান। নতুন টার্মিনালের এই কার্যক্রম বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারাতে পারে। ফলে তাদের আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। যাত্রী তথ্য, কার্গো নিরাপত্তা এবং বিমান পরিচালনার বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশি অংশীদার নির্বাচনে নিরাপত্তা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের মডেল সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। এতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণও নিশ্চিত হবে। ফলে একদিকে আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্বার্থ, কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতাও সুরক্ষিত থাকবে।
