কায়রো বিমানবন্দরে বাতিল একাধিক ফ্লাইট
মিশরের রাজধানী কায়রোর কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের পরিচালনাগত বিপর্যয়ের কারণে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
মিশরের রাজধানী কায়রোর কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের পরিচালনাগত বিপর্যয়ের কারণে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৮৩টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং ৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে হাজারো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যাত্রী দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন। পরিস্থিতির প্রভাব শুধু মিশরেই সীমাবদ্ধ নয়, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান এই সংকটের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান ঘুরিয়ে পুনরায় পরিচালনার সময়সূচিতে জটিলতা, আকাশপথে অতিরিক্ত বিমান চলাচলের চাপ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে বিলম্ব এবং সামগ্রিক পরিচালনাগত সমন্বয়ের ঘাটতি। এসব কারণে পুরো দিনের ফ্লাইট সূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং একটির বিলম্ব অন্য ফ্লাইটের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উত্তর আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হওয়ায় এখানকার যেকোনো বড় ধরনের বিঘ্ন দ্রুত আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বহু যাত্রীকে সংযোগ ফ্লাইট মিস করতে হচ্ছে, আবার অনেককে দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইজিপ্টএয়ার, এমিরেটস, টার্কিশ এয়ারলাইনস, লুফথানসা, সাউদিয়া এবং কাতার এয়ারওয়েজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন তাদের ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। অনেক উড়োজাহাজকে আকাশে বা রানওয়ের পাশে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে, আবার কিছু ফ্লাইটের যাত্রীদের বিকল্প সময়সূচি দেওয়া হচ্ছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ট্রানজিট হাবগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বেশি। ফলে কায়রোর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে পরিচালনাগত সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব দ্রুত বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ব্যস্ত মৌসুমে এমন পরিস্থিতি যাত্রী ও এয়ারলাইন—উভয়ের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন, ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচি পুনর্বিন্যাস এবং গ্রাউন্ড অপারেশন জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা কায়রো হয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনের সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিলম্ব বা সময়সূচির পরিবর্তনের জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে রেখে ভ্রমণ পরিকল্পনা করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
