চীন থেকে ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে চীনের কাছ থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে চীনের কাছ থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সময় এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের আগস্ট মাসে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। যদিও বাংলাদেশ সরকার এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবুও সম্ভাব্য এই চুক্তি ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোর একটি বড় অংশ পুরোনো প্রযুক্তিনির্ভর। বহরে রয়েছে চেংডু এফ-৭/জে-৭ সিরিজের ৩৬টি যুদ্ধবিমান এবং রাশিয়ার তৈরি আটটি মিগ-২৯। এসব যুদ্ধবিমান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হওয়ায় আধুনিক আকাশযুদ্ধের চাহিদা পূরণে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তাই আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা, বহরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যেই নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা।

জে-১০সিই হচ্ছে চীনের চেংডু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমানের উন্নত রপ্তানিযোগ্য সংস্করণ। এটি একটি ৪.৫ প্রজন্মের বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা উন্নত এভিওনিক্স, আধুনিক রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী অস্ত্র বহনের সক্ষমতার জন্য পরিচিত। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ডব্লিউএস-১০বি আফটারবার্নিং টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, যার সাহায্যে বিমানটি সর্বোচ্চ ম্যাক ১.৮ গতিতে উড়তে পারে। এতে ১১টি হার্ডপয়েন্ট রয়েছে, যেখানে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, বোমা ও অন্যান্য অস্ত্র বহন করা সম্ভব। আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে স্থল—উভয় ধরনের অভিযানে এটি কার্যকরভাবে অংশ নিতে সক্ষম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার। ২৪টি যুদ্ধবিমান কেনার এই চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ২২০ কোটি ডলার হতে পারে। শুধু যুদ্ধবিমানই নয়, এর সঙ্গে পাইলট ও প্রযুক্তিবিদদের প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা, লজিস্টিক সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। চুক্তি সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে প্রথম ধাপে যুদ্ধবিমানগুলো বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সময়ে বাংলাদেশ লালমনিরহাটে অবস্থিত বিমানঘাঁটির আধুনিকীকরণ কার্যক্রমও এগিয়ে নিচ্ছে। এই ঘাঁটিটি ভারতের সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে নতুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন এবং ঘাঁটির উন্নয়ন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জে-১০সিই আধুনিক ও সক্ষম যুদ্ধবিমান হলেও ভারতের রাফাল বা সুখোই-৩০ এমকেআই-এর মতো উন্নত প্ল্যাটফর্মের তুলনায় এটি এখনও কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিমান কমান্ডের শক্তিশালী যুদ্ধবিমান বহর বিবেচনায় এই ক্রয় সরাসরি সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনবে না। তবে বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং একই সঙ্গে চীনা সামরিক প্রযুক্তির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা আরও বাড়বে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত পরিবেশে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.