ঢাকায় ইতিহাদের প্রথম ফ্লাইট, বাড়বে বাণিজ্য ও কার্গো সংযোগ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় বিমান সংস্থা ইতিহাদ এয়ারওয়েজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-আবুধাবি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় বিমান সংস্থা ইতিহাদ এয়ারওয়েজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-আবুধাবি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। নতুন এই রুট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যাত্রী ও কার্গো পরিবহনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং বিশ্বের অন্যান্য গন্তব্যে বাংলাদেশি যাত্রী ও রপ্তানিকারকদের জন্য আরও সহজ ও কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতিহাদের উদ্বোধনী ফ্লাইট ‘ইওয়াই৩৮২’ গত ২৬ জুন রাত ১০টায় আবুধাবি থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ২৭ জুন সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। নতুন এই রুটে প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে চার দিন ফ্লাইট পরিচালনা করবে সংস্থাটি। ফ্লাইটে ব্যবহৃত বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজে ২৮টি লাই-ফ্ল্যাট বিজনেস ক্লাস আসন এবং ৩৭৪টি ইকোনমি ক্লাস আসন রয়েছে, যা দীর্ঘপথের যাত্রায় যাত্রীদের জন্য আধুনিক ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করবে।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আন্তোনোয়ালদো নেভেস এক বিবৃতিতে জানান, ঢাকার প্রথম ফ্লাইটটি শতভাগ আসন পূর্ণ অবস্থায় পরিচালিত হয়েছে। তার ভাষায়, উদ্বোধনী ফ্লাইটের এই সাফল্য বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং এই রুটে যাত্রীদের উচ্চ চাহিদার প্রতিফলন। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। নতুন এই রুট তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার পাশাপাশি ব্যবসা ও ভ্রমণকেও আরও গতিশীল করবে।
তিনি আরও বলেন, আবুধাবিকে কেন্দ্র করে ইতিহাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশি যাত্রীরা সহজেই উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে সংযোগ ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে পারবেন। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও সুবিধাজনক ও সময় সাশ্রয়ী হবে।
নতুন রুটটি কেবল যাত্রী পরিবহনের জন্যই নয়, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ইতিহাদ। বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজের বিশাল কার্গো ধারণক্ষমতার কারণে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল এবং অন্যান্য রপ্তানি পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরবরাহ আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া আবুধাবি হয়ে ভ্রমণকারী যাত্রীরা ইতিহাদের স্টপওভার কর্মসূচির সুবিধা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, ল্যুভর আবুধাবি, জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়ামসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-আবুধাবি রুটে ইতিহাদের যাত্রা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত সহজ করার মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
