ভিয়েতনামের বিমানবন্দর পরিকল্পনা থেকে বাদ পড়ছে দুটি বিমানবন্দর

ভিয়েতনামের জাতীয় বিমানবন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএভি)।

ভিয়েতনামের জাতীয় বিমানবন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএভি)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বিয়েন হোয়া বিমানবন্দর এবং হাই ফং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে জাতীয় বেসামরিক বিমানবন্দর নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় পাঁচটি নতুন বিমানবন্দর যুক্ত করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২১-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় বিমানবন্দর ব্যবস্থা পরিকল্পনার সংশোধিত খসড়া এবং ২০৫০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখায় এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভিয়েতনামে মোট ৩৩টি বিমানবন্দর থাকবে। এর মধ্যে ১৭টি আন্তর্জাতিক এবং ১৬টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ৩৬-এ পৌঁছাবে, যেখানে ১৯টি আন্তর্জাতিক এবং ১৭টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিমানবন্দরগুলো বছরে প্রায় ২৩ কোটি ৬৩ লাখ যাত্রী এবং ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টন কার্গো পরিবহন সক্ষমতা অর্জন করবে। একই সঙ্গে দেশের ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষ যেন নিজ অবস্থান থেকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে একটি বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার প্রায় ৯৭ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

খসড়া পরিকল্পনায় গিয়া বিন, থো চু, ভ্যান ফং, মাং দেন এবং নিন বিন—এই পাঁচটি নতুন বিমানবন্দর যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি হ্যানয় ও হো চি মিন সিটিকে কেন্দ্র করে দুটি আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক এভিয়েশন ও ট্রানজিট হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিয়েন হোয়া বিমানবন্দরকে পরিকল্পনা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে সিএএভি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইতোমধ্যে তান সন নাত, লং থান এবং বিয়েন হোয়া—এই তিনটি বিমানবন্দর খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে তান সন নাত ও লং থান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ভবিষ্যতের যাত্রী ও কার্গো চাহিদা পূরণে যথেষ্ট সক্ষম হবে। তাই বিয়েন হোয়ায় বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হলে আকাশপথ ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং পুরো অঞ্চলের বিমান চলাচলের দক্ষতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া বিয়েন হোয়া বিমানবন্দরটি ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় অবস্থিত। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই এই বিমানবন্দরকে বেসামরিক নেটওয়ার্কের বাইরে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হাই ফং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাদ দেওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ভবিষ্যৎ অবকাঠামো পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০৫০ সালের মধ্যে তিয়েন লাং এলাকায় নতুন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ। একই সময়ে ক্যাট বি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতাও ১ কোটি ৮০ লাখ যাত্রী পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এসব উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে নতুন করে হাই ফং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না বলে মনে করছে ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ফলে বিমানবন্দরের পরিবর্তে সমুদ্রবন্দর, লজিস্টিকস এবং অন্যান্য কৌশলগত পরিবহন অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.