হজযাত্রা শেষ, দেশে ফিরলেন ৭৯ হাজার ১০০ জন
চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের দেশে ফেরা সম্পন্ন হয়েছে।
চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের দেশে ফেরা সম্পন্ন হয়েছে। ১ জুলাই শেষ ফিরতি ফ্লাইট অবতরণের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের আনুষ্ঠানিক হজযাত্রার সমাপ্তি ঘটে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭৯ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী সৌদি আরব থেকে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন।
বুধবার শেষ দিনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইটে ১১৮ জন হজযাত্রী দেশে ফেরেন। এ নিয়ে মোট ২১৬টি ফিরতি ফ্লাইটে হজযাত্রীদের দেশে আনা হয়। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৫৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৪ হাজার ৬৪১ জন দেশে ফিরেছেন। এসব যাত্রীর মধ্যে হজযাত্রী ছাড়াও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, চিকিৎসক ও হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ছিলেন।
এয়ারলাইন্সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১১৬টি ফ্লাইটে সর্বাধিক ৩৪ হাজার ৫৬৭ জন হজযাত্রী পরিবহন করেছে। সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৭০টি ফ্লাইটে ২৫ হাজার ৩৭৭ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৫০টি ফ্লাইটে ১১ হাজার ৪৩ জনকে দেশে ফিরিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে আরও ৮ হাজার ১১৩ জন হজযাত্রী দেশে ফেরেন।
চলতি বছরের হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। হজ শেষে ৩০ মে থেকে বাংলাদেশে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়, যা ১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এর আগে ১৮ এপ্রিল প্রথম প্রাক-হজ ফ্লাইট ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করে এবং ২১ মে শেষ হজ ফ্লাইট সৌদি আরবে পৌঁছায়।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর হজ পালনের সময় সৌদি আরবে মোট ৫৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। মৃতদের মধ্যে ৩৭ জন মক্কায়, ১৭ জন মদিনায় এবং একজন জেদ্দায় মারা যান। তবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার স্থান মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
হজযাত্রীদের চিকিৎসাসেবাও ছিল সন্তোষজনক। সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৬৭ হাজার ১৪০টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৪১৫ জন হজযাত্রী স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে ছয়জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বছর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ৩০টি লিড হজ এজেন্সির মাধ্যমে সরকারি কোটায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি কোটায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজে অংশ নেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগ থেকে সর্বাধিক ২৮ হাজার ৩৯৪ জন এবং বরিশাল বিভাগ থেকে সর্বনিম্ন ২ হাজার ৭১৪ জন হজ পালন করেন। মোট হজযাত্রীর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৫ শতাংশ নারী ছিলেন। সফলভাবে হজ সম্পন্ন করে সকল হজযাত্রীর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে এ বছরের হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো।
