দুবাই থেকে আসা বিমানের ফ্লাইটে ৪৫ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় স্বর্ণের উৎস, কার্গো হোলে কীভাবে এসব বার পৌঁছেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটির কার্গো হোলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে স্বর্ণগুলো উদ্ধার করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় গোয়েন্দা সংস্থা, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল।
ঢাকা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুল হাসান জানান, দুবাই থেকে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটটি চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতি শেষে ঢাকায় অবতরণ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানটি অবতরণের পর যৌথ দল কার্গো হোল্ডে তল্লাশি চালায়। এ সময় টেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, উদ্ধার করা ১৬০টি স্বর্ণের বারের মোট ওজন ১৮ কেজি ৭০০ গ্রাম, যা প্রায় ১৯ কেজির সমান। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কার্গো হোল্ডে স্বর্ণগুলো লুকিয়ে আনা হয়েছিল। তবে এগুলো কোনো যাত্রীর মাধ্যমে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, নাকি বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ কোনো চক্র এর সঙ্গে জড়িত—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিমানটির কার্গো পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য পাচারচক্রের সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, কার্গো রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে স্বর্ণ পাচারের অপচেষ্টা রোধে বিমানবন্দরে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ফ্লাইটগুলোতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
