বৈরী আবহাওয়ায় শাহজালালে চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা
টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নির্ধারিত গন্তব্যে অবতরণ করতে না পেরে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে অর্ধশতাধিক ফ্লাইটের আগমন ও নির্গমন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বিত হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণ নিশ্চিত করতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় বিমান চলাচলে সাময়িক জটিলতা দেখা দেয়।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, দুবাই থেকে ঢাকাগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণে ব্যর্থ হয়ে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অন্যদিকে, চীনের গুয়াংজু থেকে আসা চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটকে ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট দুটির পাইলটরা নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেন।
এ ছাড়া আবুধাবি থেকে আগত ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, শারজাহ থেকে এয়ার অ্যারাবিয়া, দুবাই থেকে এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একাধিক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অবতরণ করে। একইভাবে মদিনা, সৈয়দপুর, জেদ্দা, চট্টগ্রাম ও কুয়ালালামপুর থেকে আসা বেশ কয়েকটি ফ্লাইটও বিলম্বিত হয়। ফলে সার্বিক ফ্লাইট সূচিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাতভর ভারী বৃষ্টিপাতের পর রবিবার সকালে রানওয়ের দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পাশাপাশি দমকা হাওয়ার কারণে অবতরণ ও উড্ডয়ন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল বিধি অনুসারে এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিকল্প বিমানবন্দরে ফ্লাইট পাঠানো বা সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
বিদেশ থেকে আসা ফ্লাইটগুলো দেরিতে পৌঁছানোর ফলে বহির্গামী ফ্লাইট পরিচালনাও ব্যাহত হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে সংযোগ ফ্লাইটও হারান বলে অভিযোগ করেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হচ্ছে। তবে বর্ষা মৌসুমে যাত্রীদের ভ্রমণের আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জেনে বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
