‘ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ নামের খবর নিয়ে প্রশ্ন
দক্ষিণ ফ্লোরিডার অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’
দক্ষিণ ফ্লোরিডার অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ রাখা হয়েছে। নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকেই বিমানবন্দরে নতুন নামফলক স্থাপন এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরোনো ব্র্যান্ডিং অপসারণ করে নতুন পরিচয়ে বিমানবন্দরকে সাজাতে কয়েক ধাপে কাজ পরিচালনা করা হবে।
নাম পরিবর্তনের প্রথম দিনেই ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের মালিকানাধীন ‘ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান’ নামে পরিচিত বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ঘটনাটি নতুন নামকরণের সঙ্গে প্রতীকীভাবে যুক্ত হয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও বিমানবন্দরের নতুন নাম তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক কোড পরিবর্তনের বিষয়টি কার্যকর হবে।
ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্রশাসন বিশেষ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিমানবন্দরের নতুন নাম অনুমোদন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের নতুন নাম ও ব্র্যান্ডিং বাস্তবায়নে কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। এতে নতুন সাইনবোর্ড, তথ্যকেন্দ্র, ডিজিটাল ডিসপ্লে, প্রশাসনিক নথি এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উদ্বোধনের দিন ট্রাম্প পরিবারের সদস্য এরিক ট্রাম্প ব্যক্তিগত বিমানে করে বিমানবন্দরে পৌঁছান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উদ্যোগকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সম্মান ও স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প পরিবারের জন্য পাম বিচ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, কারণ তাদের মার-এ-লাগো বাসভবন এই এলাকার কাছেই অবস্থিত এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে আসছেন।
এর আগে পাম বিচ বিমানবন্দর থেকে মার-এ-লাগো পর্যন্ত সংযোগকারী একটি সড়কের নামও পরিবর্তন করে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প বুলেভার্ড রাখা হয়েছিল। ফলে অঞ্চলটিতে ট্রাম্পের নামাঙ্কিত অবকাঠামোর সংখ্যা আরও বেড়েছে।
তবে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে একজন সাবেক ও বর্তমান জাতীয় নেতার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন জনসাধারণের অবকাঠামোর নামকরণে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহারের বিষয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ড্যান্ড্রিজ এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নামও ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের নামে নামকরণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের বিষয়টি আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
