বিমান নিরাপত্তায় সন্দেহজনক ব্যাগ খুলতে পারবে থাইল্যান্ড
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড। এখন থেকে কোনো যাত্রীর চেকড ব্যাগে নিষিদ্ধ পণ্য বা উড়োজাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে—এমন কোনো সামগ্রী থাকার সন্দেহ দেখা দিলে যাত্রীর উপস্থিতি বা সম্মতি ছাড়াই সেই ব্যাগ খুলে তল্লাশি করতে পারবেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা।
থাইল্যান্ডের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAT) জানিয়েছে, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে নিয়মটি সব ধরনের লাগেজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শুধু যেসব চেকড ব্যাগ এক্স-রে স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর সন্দেহজনক হিসেবে শনাক্ত হবে এবং উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ডে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত থাকবে, সেসব ব্যাগই অতিরিক্ত তল্লাশির আওতায় আসবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক্স-রে স্ক্যানের সময় কোনো ব্যাগে সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত হলে সেটি নির্ধারিত স্থানে নিয়ে খুলে পরীক্ষা করা হবে। পুরো তল্লাশি প্রক্রিয়া ভিডিও ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে লাগেজ খোলার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে তা যাচাই করা যায়।
ব্যাগ তল্লাশি শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে বিষয়টি জানানো হবে। অর্থাৎ নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় যাত্রীকে বিমানবন্দরে খুঁজে বের করে উপস্থিত রাখার প্রয়োজন হবে না। এর ফলে সন্দেহজনক লাগেজ শনাক্ত হওয়ার পর মালিককে খুঁজে বের করতে গিয়ে যে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়, তা কমবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন নিয়মের আওতায় যাত্রীদের TSA-অনুমোদিত লকযুক্ত লাগেজ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে CAAT। এসব লক অনুমোদিত নিরাপত্তাকর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী খুলতে পারেন এবং সাধারণত লাগেজের তালা বা ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত না করেই তল্লাশি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
CAAT জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও একই ধরনের নিরাপত্তা পদ্ধতি চালু রয়েছে। সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সন্দেহজনক চেকড ব্যাগ যাত্রীর অনুপস্থিতিতেও নিরাপত্তা পরীক্ষার আওতায় আনা হয়।
থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্লাইট পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো। সন্দেহজনক লাগেজের মালিককে খুঁজে বের করার অপেক্ষা না করেই নিরাপত্তাকর্মীরা তল্লাশি সম্পন্ন করতে পারবেন।
থাইল্যান্ড চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম এই নীতির ঘোষণা দেয়। এরপর বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতির সময় দেওয়া হয়।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কোনো যাত্রী তার লাগেজ তল্লাশি নিয়ে অভিযোগ বা উদ্বেগ প্রকাশ করতে চাইলে CAAT-এর নির্ধারিত অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে পারবেন। বিমানবন্দর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি লাগেজ তল্লাশির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও এই ব্যবস্থা ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।