শাহজালালর তৃতীয় টার্মিনাল : বর্ষার আগেই মাটি ভরাটের উদ্যোগ বেবিচকের

চলতি মাসের মধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ শেষ করতে চায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আসন্ন বর্ষার আগেই প্রকল্প এলাকাটি পাইলিংয়ের জন্য প্রস্তুত রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদে সাধারণ ছুটি চলাকালেও চালু রাখা হয়েছিল প্রকল্পের কার্যক্রম।

চলমান নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি মধ্যেও তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা চাইছে না বেবিচক। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান এ প্রসঙ্গে  বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে যাতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা চাচ্ছি আসন্ন বর্ষার আগেই প্রকল্প এলাকাটিকে পাইলিংয়ের জন্য প্রস্তুত করতে। এ কারণে জুনের মধ্যে মাটি ভরাটের কাজ শেষ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৮ ডিসেম্ব্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে গৃহীত প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। পরবর্তী সময়ে জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার ও জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার যৌথ অর্থায়নে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী গত ৩০ মে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। সে সময় নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী টার্মিনালের নির্মাণকাজ উদ্বোধনের পর থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই তা চলমান রয়েছে। দেশে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেও কাজটি চলমান ছিল। অগ্রগতিও সন্তোষজনক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

জানা গেছে, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে আসবে ৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থায়ন করবে জাইকা।জাপানের মিত্সুবিশি ও ফুজিতা এবং কোরিয়ার স্যামসাংয়ের একটি কনসোর্টিয়াম টার্মিনালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবে।

বিমানবন্দরে বর্তমানে চালু দুটি টার্মিনালে (টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২) জায়গা রয়েছে প্রায় ১০ লাখ বর্গফুটের মতো। অন্যদিকে তৃতীয় টার্মিনালের আয়তন হবে ২২ দশমিক ৫ লাখ বর্গফুট। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরের বর্তমান যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটিতে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে কার্গোর ধারণক্ষমতা বর্তমান দুই লাখ টন থেকে বেড়ে দাঁড়াবে পাঁচ লাখ টনে।

প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রথম অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। সে সময় প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। পরে একটি পৃথক আমদানি-রফতানি কার্গো হাউজ স্থাপন ও নতুন ?ভিভিআইপি টার্মিনাল নির্মাণকাজের কিছু অংশ বর্ধিত করায় মোট প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকায়।

Published : Bonik Barta, 3 july, 2020

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.