বাবাকে বাঁচাতে পারলেন না চেতন সাকারিয়া

আইপিএলের টাকা দিয়ে বাবাকে সুস্থ করার লড়াইয়ে নেমেছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের আলোচিত পেসার চেতন সাকারিয়া।
কিন্তু ভয়ংকর করোনার সঙ্গে ডাক্তাররা পেরে ওঠেননি।
চেতন সাকারিয়ার পিতা কাঞ্জিভাই করোনার কাছে হার মেনে পরলোকে যাত্রা করেছেন।
এর আগে এক বছরের ছোট ভাইকে হারিয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের তরুণ পেসার। তার জীবনে সত্যিকারঅর্থেই এখন চরম দুর্যোগ।

কয়দিন আগেই জানা গিয়েছিল যে, চেতনের বাবা করোনা আক্রান্ত।
আইপিএলের বায়ো-বাবল থেকে বেরিয়ে চেতন নিজেই জানিয়েছিলেন যে, রাজস্থান রয়্যালসের কাছ থেকে পাওয়া টাকা তিনি পিতার চিকিৎসার কাজে লাগাতে পারছেন। যদিও শেষরক্ষা হয়নি।
সবরকম চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি কাঞ্জিভাইকে।
তরুণ ক্রিকেটার আগের দিনই বাবাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
চেতনের টেম্পো ড্রাইভার পিতার শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল।

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে চেতন সাকারিয়ার জন্ম রাজকোট শহর থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরে ভারতেজ নামক অঞ্চলে।
ছোটবেলায় মামার স্টেশনারি দোকানে কাজ করত চেতন।
পাঁচ বছর আগেও তাদের বাসায় টিভি ছিল না।
বাবা অসুস্থ হওয়ার পর ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি সংসারের সব ব্যয় একাই বহন করতেন চেতন।
আইপিএল ১ কোটি ২০ লাখ রুপির চুক্তিটা তাই তার পরিবারের কাছে বিশাল কিছু।
চেতনের বুটজোড়াও ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের সাবেক উইকেটকিপার শেলডন জ্যাকসনের দেওয়া।

আইপিএল স্থগিতের পর চেতন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমি ভাগ্যবান, কিছু দিন আগে আমার আইপিএল চুক্তির কিস্তি রাজস্থান রয়্যালসের কাছ থেকে পেয়েছি। সেই টাকা আমি সোজা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।
এই কঠিন সময়ে ওই টাকাটা আমার পরিবারের খুবই দরকার ছিল।
পরিবারের মধ্যে আমিই একা আয় করি।
আইপিএল আমার জীবনটা বদলে দিয়েছে। আইপিএল থেকে পাওয়া টাকায় আমি পিতার ভলো চিকিত্সা করাতে পারব।’

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.