বিদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এতে বৈধ পথে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণও বেড়েছে। তবে বৈধ পথে আরো বেশি পরিমাণ রেমিট্যান্স আনতে চায় সরকার। এজন্য স্বল্প আয়ের প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণ ফি মওকুফ করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে ফি কমানোর প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল, তাই প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মার্কিন ডলার কিংবা এর চেয়ে কম রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের প্রচলিত ২ শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি অতিরিক্ত আরো ১ শতাংশ প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ মতামত জানিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। পর্যালোচনা শেষে সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান-বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ‘স্বল্প রেমিট্যান্স পাঠানো অভিবাসী কর্মীদের হুন্ডির পথ থেকে নিরুত্সাহিত করতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ফি মওকুফ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে উচ্চ আয়ের প্রবাসীদের প্রদত্ত সুযোগের সঙ্গে তা সমন্বয় করতে হবে।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক শীর্ষ রেমিট্যান্স আহরণকারী ১০টি ব্যাংক এবং বিভিন্ন দেশে অবস্থিত সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাধীন ব্যাংকের সঙ্গে সভা করেছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্তে আরো জানানো হয়, ‘অভিবাসী কর্মীদের রেমিট্যান্স প্রেরণের সুবিধার্থে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স রিসিভ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে ব্যাংকটি জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে রেমিট্যান্স রিসিভ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তাদের নস্ট্রো হিসাব খোলার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, বিদেশের ব্যাংকে দেশের ব্যাংকের হিসাবকে নস্ট্রো হিসাব বলে।