‘যুক্তরাষ্ট্র উস্কানিদাতা ও চীন ভিকটিম’

গগন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার রাত থেকে তাইওয়ান দ্বীপের কাছে কয়েকটি সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড। ওই সামরিক অভিযান নিয়ে বেইজিংয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র উসকানিদাতা ও চীন ভিকটিম। বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনয়িং এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, তাইওয়ানের কাছে সাগরে চীনা সেনাবাহিনীর সামরিক মহড়া জাতীয় সার্বভৌমত্বকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার জন্য একটি প্রয়োজনীয় এবং ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, পেলোসির তাইওয়ান সফরকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র উস্কানিদাতা, চীন ভিকটিম। যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ানের যৌথ উস্কানি প্রথমে এসেছিল, চীনের ন্যায়সঙ্গত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পড়ে এসেছে। 

চীনের হুমকির মধ্যেই এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ানে পৌঁছান। আর তার এ সফরের প্রতিক্রিয়ায় চীনের ২০টির বেশি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে। তাইওয়ান দ্বীপের কাছে পাঁচটি সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। এ ছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রে সীমান্তের কাছে বাড়ছে সাঁজোয়া গাড়ি এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম।

টুইটারে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, মঙ্গলবার ২১টি পিএলএ বিমান তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ এলাকায় ঢুকে পড়ে।

চীনা হুমকির প্রতিক্রিয়ার পর তাইওয়ানের পূর্ব সীমান্তে চারটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে হোয়াইট হাউস। পেলোসির নিরাপত্তার অজুহাতে দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপরাষ্ট্রে আমেরিকার যুদ্ধবিমানের বহরও ঢুকে পড়েছে।

পেলোসির তাইওয়ান সফর কূটনৈতিক এবং সামরিক দিয়ে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। ১৯৯৭ সালের পর থেকে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্যস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা তাইওয়ান সফরে গেলেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.