‘বিমানকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই বড় চ্যালেঞ্জ’

যাত্রীদের সন্তুষ্ট করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করে তোলাই প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.যাহিদ হোসেন।

বিমানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বলাকা ভবনে প্রথমবারের মতো আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে তিনি এমন প্রত্যাশার কথা জানান।

যাহিদ হোসেন বলেন, “বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমার প্রধান লক্ষ্য লাভ করা, বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। বিমানের যাত্রীদের স্যাটিসফ্যাকশন নিশ্চিত করা।

“তবে আমাদের কাস্টমার সার্ভিস এক্সপেক্টেড পর্যায়ের না, এটাতে আরও উন্নতি করার সুযোগ আছে।”

বিমানের সব সিদ্ধান্ত এখন থেকে বাণিজ্যিকভাবে নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “যেহেতু আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য হলো বিমানকে বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, তাই আমরা সব সিদ্ধান্ত বানিজ্যিকভাবেই নেব।

“তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের সাথে রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হবে।”

বিমানের সিইও বলেন, “আমাদের প্রায় ৮০ লাখ প্রবাসী রয়েছে। তারা বিমানে চলাচল করতে চায়। আমরা আমাদের প্লেনগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করবো। এটাই আমার লক্ষ্য।”

এসময় করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে যাহিদ হোসেন বলেন, “কোভিডে সারা পৃথিবীর এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অনেক এয়ারলাইন্স বন্ধও হয়ে যায়।

“বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেছি। আমরা ২০২১-২২ এ ২২ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছি।”

বর্তমানে বিমানের বার্ষিক টার্নওভার ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, “বিমানকে আমরা এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চাই যার বার্ষিক টার্নওভার হবে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

“এটা করতে হলে আমাকে ব্যবসাকে বড় করতে হবে, সিদ্ধান্তগুলো ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা করে নিতে হবে।”

বিমানের সিইও এমন আশাবাদ ব্যক্ত করলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বেবিচকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন চার্জ ও ফি বাবদ বিমানের বকেয়ার পরিমাণ ৪ হাজার ৭৪৪ কোটি ৭৪ লাখ ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এর মধ্যে মূল বকেয়া ৯৫৩ কোটি ৪৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৯ টাকা।

বাকি পাওনার মধ্যে ভ্যাট ৩৪১ কোটি ৮৫ লাখ ১১ হাজার ৮৬৩ টাকা, আয়কর ৩১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭ টাকা এবং বকেয়ার ওপর সারচার্জ ৩ হাজার ৪৪৯ কোটি ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮ টাকা।

টরন্টো ফ্লাইটের লাভ ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পালন করা যাহিদ হোসেন বলেন, “একটা রুট একটা মৌসুমের জন্য খোলা হয়। আমরা লাভ-লস হিসেব করব সিজনের পর।

“কোনো কোনো ফ্লাইটে ২৫০ এর বেশি বুকিং হয়েছে এর বাইরে কার্গোতে রেসপন্স ভালো। টরন্টো দিয়ে নর্থ আমেরিকায় প্রবেশ করেছি। এখানে সফল অপারেশন করতে পারলে আমরা ইউএস মার্কেটে ঢুকতে পারব।”

সম্প্রতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ ছুড়ে ফেলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা ওই ধরণের আচরণ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। নিকট অতীতে লাগেজ ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটে নাই।

“এটা যখন ঘটেছে আমি স্বীকার করি অ্যান্ড আই ফিল সরি ফর দ্যাট। এই ধরণের ঘটনা যদি ঘটে সিইও দায়ী হবে। আমি আমার অধঃস্তন কাউকে দায়ী করব না।”

সম্প্রতি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ রাখার- হ্যাঙ্গারে একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে অপর উড়োজাহাজের ধাক্কা লাগার ঘটনায় সুইপারকে বলির পাঠা করে অন্যদের রক্ষা করা হয়েছে কি না মিট দ্য প্রেসে এমন প্রশ্ন তোলা হয়।

এর জবাবে বিমানের সিইও যাহিদ হোসেন বলেন, “না! সু্ইপারকে মোটেও বলির পাঠা বানানো হয়নি। এখানে সাত থেকে আটজন লোক বরখাস্ত হয়েছে। তারা কেউ সুইপার না।

“যার যেই কাজটা করার কথা ছিল সে কাজটা করে নাই। এটা আমাদের সুপারভাইজিং ফেই্লিওর এতে কোনো সন্দেহ নাই।”

চীনের সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চীন কর্তৃপক্ষ আমাদের যতটুকু ফ্লাইট অপারেশন করার অনুমতি দেয় আমরা ততটুকুই করব। অফিসিয়ালি বিষয়টা আমাদেরক জানায়নি। ঢাকাস্থ চীনের দূতাবাসের একটা পোস্ট থেকে বিষয়টা আমরা জানতে পেরেছি।”

বিমানে পাইলট নিয়োগের দুর্নীতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দুদক বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। ফৌজদারী তদন্তের ক্ষেত্রে যে কোনো সংস্থা স্বাধীন। আমরা সবসময় তাদের তদন্তের ব্যাপারে সহযোগিতা করব। ফৌজদারী তদন্তে যে ফলাফল আসে সেই ফলাফল অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।”

চলতি বছরের ১৩ জুলাই বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান অতিরিক্ত সচিব মো. যাহিদ হোসেন। তিনি এর আগে বিমানের পরিচালকের (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) দায়িত্বে ছিলেন।

বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত হিসেবে বিমানের প্রকিউরমেন্ট ও লজিস্টিক সাপোর্ট বিভাগের পরিচালক, বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বেও আছেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.