ওসমানী বিমানবন্দরে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ফ্লাইটে নেয়নি বিমান

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চিকিৎসকের অনুমতিপত্র না থাকায় ২৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চিকিৎসকের অনুমতিপত্র না থাকায় ২৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরিবারের ওই নারী সদস্যকে একা রেখে যেতে রাজি না হওয়ায় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য তিন সদস্যও যাত্রা বাতিল করেন। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার (১ নভেম্বর) তাঁদের যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সিলেট থেকে লন্ডনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০১ ফ্লাইটটির। ওই ফ্লাইটে যাত্রার জন্য চার সদস্যের পরিবারটি নির্ধারিত সময়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে।

এ সময় পরিবারের ২৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা নারী সদস্যের ভ্রমণের বিষয়টি সামনে আসে। বিমানের নিয়ম অনুযায়ী, এ অবস্থায় আকাশপথে ভ্রমণের জন্য চিকিৎসকের অনুমতিপত্র প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না থাকায় ওই নারীকে ফ্লাইটে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাঁর সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে সেদিন চারজনের কারও লন্ডন যাত্রা হয়নি।

এ বিষয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমদ জানান, এটি মূলত বিমান সংস্থার নিয়মসংক্রান্ত বিষয়। অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ফ্লাইটে নেওয়ার জন্য তাঁরা চেষ্টা করেছিলেন। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অনুমতিপত্র না থাকায় এবং কেবিন ক্রুসহ সংশ্লিষ্টদের আইনি জটিলতার আশঙ্কা থাকায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, যাত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। চিকিৎসকের অনুমতিপত্র সংগ্রহের জন্য তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও শুরু হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ আকাশযাত্রা নিশ্চিত করতে অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার নির্দিষ্ট পর্যায়ে ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ ও অনুমতিপত্র প্রয়োজন হতে পারে। এর মাধ্যমে যাত্রীর শারীরিক অবস্থা এবং আকাশপথে ভ্রমণের উপযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

পরিবারটির পক্ষ থেকে চিকিৎসকের ছাড়পত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পাওয়া গেলে রোববার তাঁদের যুক্তরাজ্য যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্টেশন ম্যানেজার।

এদিকে, এ ঘটনায় যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি। এতে বিমানবন্দরে শেষ মুহূর্তের জটিলতা ও ভ্রমণ বাতিলের মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.