অর্থনৈতিক দুর্দশার মধ্যেও বাড়ছে পাকিস্তানের সামরিক বাজেট

পাকিস্তানের সীমান্ত লঙ্ঘন হয়েছে। তবে কোনো বাইরের শক্তি বা কথিত কাফের দ্বারা নয় তাদের নিজেদেরই ‘পোশাকধারী রক্ষীদের’ দ্বারা।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবসায়িক দল যারা পাকিস্তানের রাজনীতি থেকে শুরু করে ফ্যাক্টরি, বেকারি সব চালায় তারাই দেশকে নিচে নামিয়েছে।

পাকিস্তানে এখন ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশা চলছে। কিন্তু এর কোনো আঁচ পড়েনি দেশটির সামরিক বাজেটে। এমন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শঙ্কার মধ্যেও বাড়ছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৫বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিচে নেমে যাওয়ায় পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এখন দেশটির হাতে দু’মাসের আমদানি খরচের অর্থ আছে।

রুপির দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা পাকিস্তানের অর্থনীতির ওপর আস্থা হারাচ্ছে। এখন পাকিস্তানের মুদ্রার ২৩৯.৬৫ রুপিতে পাওয়া যাচ্ছে এক মার্কিন ডলার। জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশটিতে তেল ও খাদ্য আমদানিতে ১১শতাংশের বেশি খরচ হয়েছে। একই সময়ে রফতানি কমেছে চার শতাংশ।

দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে। এমন সময়ে সাম্প্রতিক বন্যা দেশটির জনগণের দুর্দশা আরও বাড়িয়েছে।

তবে এমন মারাত্মক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ওপর। কারণ, দেশটির সেনাবাহিনীর তিন বিভাগের জন্যই বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে।

দেশটির বাজেটের সিংগভাগই ব্যয় হয় প্রতিরক্ষায়। এর মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বর্তমান সঙ্কটের মধ্যেও শক্তিশালী হয়েছে। এ বিষয়ে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, পাকিস্তান বর্তমানে বিশ্বের দশম সামরিক শক্তি।

২০২১-২২ সালে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট ছিলো ২.৩ ট্রিলিয়ন রুপি। সামগ্রিকভাবে দেশটির এ প্রতিরক্ষা খাতে মোট বাজেটের ২১.২ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছে। এরপরেও দেশটির সামরিক খাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। বর্তমান বাজেটের বিভিন্ন শিরোনামের দিকে নজর দিলে দেখা যায় দেশটির প্রকৃত প্রতিরক্ষা ব্যয় ১.৮ থেকে ২.৩ ট্রিলিয়ন রুপি (যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় ৯.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এটা দেশটির মোট বাজেটের ২৪ শতাংশ।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.