এসএসসিতে দেশসেরা যশোর বোর্ড

করোনাকালের পর এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে দেশসেরা সাফল্য অর্জন করেছে যশোর বোর্ড। সেইসঙ্গে জিপিএ-৫ প্রাপ্তি গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্য দিয়ে অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে এই শিক্ষাবোর্ড।

সোমবার এসএসসির ফল প্রকাশের পর এসব তথ্য জানা গেছে। এই শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৯৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ হাজার ৮৯২ জন। যা গত বছর ছিল ১৬ হাজার ৪৬১। এটি গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর আগে ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। বেশ কয়েকটি কারণে এমন সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র।

তিনি বলেন, ‘এ বছর পরীক্ষায় ছেলেমেয়েদের কাছে প্রশ্নপত্র ঝামেলার হয়েছে এমন কথা শোনা যায়নি। তারা ভালোভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছে। কেননা প্রশ্নপত্র টেক্সটবুকের বাইরে ছিল না। প্রশ্নপত্র চয়েস করে উত্তর দেওয়ার সুযোগ ছিল; যেমন ১১টি প্রশ্ন থেকে যেকোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর, ৩০টি এমসিকিউ থেকে ১৫টি এবং সময় ছিল ২০ মিনিট।’

ভালো ফলের অন্যতম কারণ

পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা দ্বিগুণের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘এবার শর্ট সিলেবাস হওয়ায় ছেলেমেয়েরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছে। প্রশ্ন চয়েস, পর্যাপ্ত সময় আর শর্ট সিলেবাস; সবমিলিয়ে ছেলেমেয়েরা পড়ায় মনোযোগী হওয়ায় ভালো ফল হওয়ার অন্যতম কারণ।’

তিনি বলেন, ‘এবার এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষায় প্রশ্ন ব্যাংক অর্থাৎ, সেন্ট্রাল প্রশ্ন ব্যাংকের আওতায় পরীক্ষা দিয়ে আসছে। সে কারণে তারা প্রশ্নভীতি থেকে মুক্ত ছিল।’

মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘গত বছর যশোর বোর্ডের অধীনে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২৫৫টি। এবার কিন্তু সেই সংখ্যাও বেড়েছে। চলতি বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫১৩টি।’

এদিকে, এবার যশোরের একটি মাত্র স্কুল থেকে কেউ পাস করেনি। এটি হচ্ছে মণিরামপুর উপজেলার গলদা-খড়িঞ্চি গার্লস হাইস্কুল।

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘এই স্কুল থেকে তিন জনের পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও অংশ নিয়েছিল একজন। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরে জানিয়েছি। একজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছে।’

এগিয়ে মেয়েরা

বরাবরের মতো এবারও পরীক্ষার ফলে মেয়েরা এগিয়ে আছে। এই শিক্ষাবোর্ড থেকে এবার ৮৩ হাজার ৮৭৮ মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। যার মধ্যে পাস করেছে ৮০ হাজার ৪৫৬ জন, পাসের হার ৯৫ দশমিক ৯২। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ২৭৫ জন। একজনও বহিষ্কার হয়নি।

অপরদিকে, ৮৫ হাজার ৬২৩ জন ছেলে পরীক্ষা দিয়েছে। পাস করেছে ৮০ হাজার ৮৫৮ জন। পাসেরর হার ৯৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬১৭ জন। বহিষ্কার হয়েছে ৯ জন।

 

শিক্ষাবোর্ডের অধীন ১০ জেলার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে সাতক্ষীরা। এই জেলায় পাসের হার ৯৭ দশমিক ৩৮। এরপর যশোর জেলায় পাসের হার ৯৫ দশমিক ৭৭, তৃতীয় অবস্থানে খুলনা জেলায় পাসের হার ৯৫ দশমিক ৭৫। এরপর কুষ্টিয়ায় পাসের হার ৯৫ দশমিক ৪১, বাগেরহাটে ৯৫ দশমিক ২৮, চুয়াডাঙ্গায় ৯৪ দশমিক ৭০, মেহেরপুরে ৯৪ দশমিক ৩৩, মাগুরায় ৯৩ দশমিক ৭৬, ঝিনাইদহে ৯৩ দশমিক ৫৯ এবং নড়াইলে ৯২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

যশোর বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে যশোর বোর্ডে এক লাখ ৭৮ হাজার ৭৯৫ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল এক লাখ ৬৬ হাজার ৪৩৯ জন। পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৬ হাজার ৪৬১ জন। সে অনুযায়ী গত বছরের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থী। এবার ১৪ হাজার ৪৩১ জন শিক্ষার্থী বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর পাসের হার বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ।

এগিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ

এবারও অন্যান্য বিভাগের তুলনায় ভালো ফল করেছে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা। এই বিভাগ থেকে ৩৮ হাজার ৩৭৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৭ হাজার ৭৬৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩ হাজার ৭০১ জন।

বিজ্ঞানের পরই রয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। এই বিভাগ থেকে ২২ হাজার ৪১০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২১ হাজার ৮৩৪ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ব্যবসায় বিভাগ থেকে এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ৬২৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৯৭৮ জন ও ছাত্রী এক হাজার ৬৪৮ জন। মানবিক বিভাগ থেকে এক লাখ আট হাজার ৭১৪ ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করেছে এক লাখ এক হাজার ৭১২ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৬ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ৫৬৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৮৬২ ও ছাত্রী তিন হাজার ৭০৩ জন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.