মরক্কোকে বিদায় করে ফাইনালে ফ্রান্স

আফ্রিকার বিস্ময় মরক্কোকে ২-০ গোলে পরাজিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠেছে। বুধবার রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কুশলী এবং কার্যকরী ফুটবল খেলে ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে নেয় ফ্রান্স। খেলার ৫ মিনিটের মাথায় থিও হার্নান্দেজ এবং ৭৯ মিনিটে মুয়ানি বিজয়ী দলের পক্ষে গোল করেন।

ফ্রান্স ফাইনালে রবিবার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনার। তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে মরক্কো খেলবে ক্রোয়েশিয়ার সাথে।

স্পেন এবং পর্তুগালের মতো দলকে বিদায় করে সেমিফাইনালে উঠে আসা মরক্কো এ ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য বজায় রেখে খেললেও ফ্রান্সের কুশলী খেলার কাছে হার মানে। মরক্কো বেশ কয়েকবার বল নিয়ে বিপজ্জনকভাবে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়লেও ফরাসী ডিফেন্ডারদের সময়োচিত বাধার কারণে কোন গোল করতে পারেনি। দু একবার তারা শট নিলেও তা লরিসকে পরাস্ত করার জন্য যথেষ্ঠ ছিল না। মরক্কো বিদায় নিলেও তাদের প্রেসিং ফুটবল মন জয় করেছে বিশ্ববাসীর। আর ফ্রান্স আরেকবার প্রমাণ করেছে ফুটবলে জিততে হলে খেলতে হয় মাথা ঠান্ডা রেখে। তাছাড়া ম্যাচ জিততে ভাগ্যের ছোয়াও লাগে।

ফেবারিট হিসেবে সেমিফাইনাল খেলতে নামা ফ্রান্স ৫ মিনিটের মাথায়ই গোল করে এগিয়ে যায়। কাউন্টার অ্যাটাকা থেকে তারা গোলটি করে। আতোয়া গ্রিজম্যান মরক্কোর রক্ষণ সীমায় বল পেয়ে সেটি দেন কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। এ তরুন শট নিলে সেটি প্রতিহত হয় মরক্কোর গোলরক্ষকের মাধ্যমে, কিন্তু বল চলে চায় বাম দিক থেকে উঠে আসা থিও হার্নান্দেজের কাছে এবং তিনি সাইড ভলিতে বল জালে পাঠান।

ম্যাচের শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ায় সেটি পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাতে শুরু করে আফ্রিকান দেশটি। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে তারা বল দখলের হিসেবে এগিয়ে যায় ফ্রান্সের চেয়ে। এমনকি ম্যাচে প্রাধান্যও স্থাপন করতে সক্ষম হয় মরক্কো। বাধ্য হয়ে কাউন্টার অ্যাটাকের কৌশল বেছে নেয় ফ্রান্স। এর ফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা বল দখলের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগ বেশী সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে ১৭ মিনটে ব্যবধান দ্বিগুন করার সুবর্ন সুযোগ নষ্ট করেন অলিভার জিরু। তিনি বল নিয়ন্ত্রনে নিয়ে দুরন্ত গতিতে ডিফেন্ডার রোমাইন সাইসকে পেছনে ফেলে শট মারলে সেটি পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়।

তার আগে ১১ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের গোলরক্ষক হুগো লরিসের প্রথম পরীক্ষা নেয় মরক্কো। আজেদিন ওনাহির ২৫ গজ দূর থেকে নেয়া শট ঝাপিয়ে বাচিয়ে দেন লরিস।

মরক্কোর খেলোয়াড়দের মধ্যে হার না মানার মানসিকতা ছিল দেখার মতো। যে কারণে তাদের খেলোয়াড়রা নিরলস চেষ্টা বজায় রাখে। মাঝে মাঝে প্রতিপক্ষের গোলমুখে বিপজ্জনকভাবে ঢুকলেও গোলের পরিস্কার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি।

ফরাসী তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে একবার দারুন শট মারলেও সেটি মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোকে পরাস্ত করতে পারেনি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফ্রান্সের উপর বেশ চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় মরক্কো। ৪৪ মিনিটে ফ্রান্সের পেনাল্টি বক্সের ভেতরে সৃষ্ঠ জটলার মধ্য থেকে জাওয়াদ এল ইয়ামিকের ওভারহেড কিক জালে যাওয়ার ঠিক আগে কোন রকমে হাত লাগিয়ে দেন গোলরক্ষক হুগো লরিস। এর ফলে বল পোস্টে লেগে যায় বাইরে। ইনজুরি টাইমেও চাপ বজায় রাখে মরক্কো, কিন্তু কাঙ্খিত গোল তারা আদায় করতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ফ্রান্সের উপর চাপ সৃষ্টি করে মরক্কো। প্রথম দশ মিনিটের মধ্যে অন্তত দুইবার গোল খাওয়া থেকে বেচে যায় ফ্রান্স। প্রথমে গোলরক্ষক লরিস এবং পরে ডিফেন্ডার ক্যানাটে ফ্রান্সকে রক্ষা করেন। এর পর আরেকবার হাকিম জিয়াস বল নিয়ে ঢুকে পড়লে সেটি বাচিয়ে দেন গ্রিজম্যান। মরক্কোর চাপের মুখে বলতে গেলে নয়জন ফরাসী রক্ষণকাজে নিয়োজিত হন। তবে এতে বিপদ হতে পারে মরক্কোর। এমবাপ্পের মতো গতিময় খেলোয়াড় বল পেয়ে গেলে যে কোন সময় ব্যবধান বাড়িয়ে ফেলতে পারে ফ্রান্স। মরক্কোর অবশ্য এ ছাড়া বিকল্পও ছিল না। ব্যবধান যাই হোক না কেন পরাজিত হলেই বিদায়। তাই গোল খাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে করার দিকেই মনোনিবেশ করে মরক্কো।

ফ্রান্স স্ট্রাইকার জিরুকে তুলে মাঠে নামায় মার্কাস থুরামকে। তার বাবা লিলিয়ান থুরাম ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতাতে বিশেষ ভুমিকা পালন করেছিলেন। ছেলে মাঠে নামার পর অবশ্য মরক্কোর একক আধিপত্য কমে যায়।

ফ্রান্স ৭৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করে ফেলে। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার ৩০ সেকেন্ডের মাথায় দলের হয়ে গোলটি করেন কোলো মুয়ানি। গোলটির পেছনে ভাগ্যের ছোয়াও ছিল। কিলিয়ান এমবাপ্পে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে বল পেয়ে চার জন খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে চমৎকার শট নিলে সেটি একজন ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে চলে যায় মুয়ানির কাছে এবং তিনি সহজেই ট্যাপ করে পরাস্ত করেন বোনোকে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.