৩২ বছর পর চালুর পথে কুমিল্লা বিমানবন্দর

দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল বন্ধ থাকার পর আবারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কুমিল্লা বিমানবন্দর।

দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল বন্ধ থাকার পর আবারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কুমিল্লা বিমানবন্দর। সরকারের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ পরিকল্পনার আওতায় বিমানবন্দরটি আধুনিকায়নের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রানওয়ে সংস্কার, ফায়ার সার্ভিস সুবিধা, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন এবং কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলে এখান থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল শুরু করা সম্ভব।

সরকার দেশের আটটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর পুনরায় চালুর যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, কুমিল্লা বিমানবন্দরও সেই তালিকায় রয়েছে। অন্য বিমানবন্দরগুলো হলো বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, খানজাহান আলী ও পটুয়াখালী।

১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কুমিল্লার নেউরা-ঢুলিপাড়া এলাকায় বিমানবন্দরটি নির্মিত হয়। ১৯৬৬ সালে এটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হয়। পরে যাত্রীসংকটের কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৪ সালে পুনরায় চালু হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে আবারও যাত্রীস্বল্পতার কারণে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে ৩২ বছর ধরে কোনো যাত্রীবাহী বিমান ওঠানামা না করলেও বিমানবন্দরের নেভিগেশন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রয়েছে।

বর্তমানে বিমানবন্দরের ডিভিওআর (DVOR) ও ডিএমই (DME) নেভিগেশন সিগন্যাল ব্যবহার করে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল করছে। এই সেবা থেকে সরকার প্রতি মাসে প্রায় আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে। বিমানবন্দরে বর্তমানে ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নেভিগেশনাল যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নের কাজও চলছে।

কুমিল্লা বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), যেখানে দেশি-বিদেশি ৪৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রবাসী-অধ্যুষিত জেলা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের মতে, বিমানবন্দরটি চালু হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্পখাতের সম্প্রসারণ ঘটবে এবং প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। বর্তমানে অধিকাংশ যাত্রীকে ঢাকা বা চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হওয়ায় সময় ও ব্যয় দুটোই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কুমিল্লা বিমানবন্দরের সিএনএস প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন আহমদ জানান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন হলে বিমানবন্দরটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। তবে বিমানবন্দরের চারপাশে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ভবিষ্যতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN