ফ্লাইট ওঠানামার আগে এখনো রানওয়ে পরিস্কার করছে না বিমানবন্দর কতৃপক্ষ!
বিমানের একটি চাকার টায়ার ফেটে যাওয়ায় সিঙ্গাপুরগামী রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বুধবার। সকাল ১১টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। জানাগেছে পাইলট উড়োজাহাজটি টেকঅফের জন্য দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় হঠাৎ মনিটরে দেখতে পান চাকার নিচে কিছু একটা পড়েছে। তাৎক্ষনিক বিকট শব্দে চাকাটির টায়ার ফেটে যায়। আর তখনই দ্রুত ব্রেক কষে উড়োজাহাজটি থামিয়ে যাত্রা বাতিল করেন পাইলট।
এই ঘটনায় এক ঘন্টা বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ছিল। অবতরণের তালিকায় থাকা ৩/৪টি ফ্লাইট কিছুক্ষন আকাশে চক্কর দিয়ে পরে নিরাপদে অবতরণ করে। উড্ডয়নের তালিকায় থাকা ফ্লাইটগুলোকে একারণে বিলম্বে ছেড়ে যেতে হয়েছে। তবে বিকল্প ফ্লাইটে রিজেন্ট কতৃপক্ষ তাদের যাত্রীদের সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছেন। এই ঘটনায় কোন ধরনের হতাহত হয়নি বলে বিমানবন্দর কতৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটনার পরও শাহজালাল কতৃপক্ষ সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামার আগে রানওয়ে পরিস্কার করছে না। এজন্য কোন অত্যাধুনিক মেশিনও ক্রয় করছে না। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক ফ্লাইট অবতরণ ও উড্ডয়নের পর রানওয়েতে ঝুকিপুর্ণ পদার্থ পড়তে পারে। একারনে সব ধরনের ফ্লাইট অবতরণ ও উড্ডয়নের পর মেশিনের সাহায্যে রানওয়ে পরিস্কার করতে হয়।
এর আগেও প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি ফ্লাইট অবতরণের আগ মুহুর্তে রানওয়েতে ধাতব পদার্থ পড়ে থাকতে দেখেন তার ম্পেশাল সিকিউরিটিফোর্স এসএসএফ। তাৎক্ষনিক তারা রানওয়ে বন্ধ করে দেন। অবতরণের অনুমতি না পেয়ে ওই ফ্লাইটকে ৩১ মিনিট আকাশে চক্কার দিতে হয়েছিল। এই ঘটনায় গোটা দেশ জুড়ে তোলপাড় হয়। একাধিক তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। এখনো একটি তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্টও জমা দেয়নি। এরই মধ্যে বুধবার রানওয়েতে পড়ে থাকা বস্তুর আঘাতে একটি উড়োজাহাজের চাকার টায়ার ফেটে যায়।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য পাইলটদের বুদ্ধিমত্তার কারণে দ্রুত ফ্লাইটটি থামাতে সক্ষম হলেও এই ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা ছিল। কিন্তু এতকিছুর পরও বিমানবন্দর কতৃপক্ষ রানওয়ে পরিস্কার করণে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এনিয়ে একের পর এক ঘাফিলতি করছে কতৃপক্ষ।
অভিযোগ আছে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও মানছে না সিভিল এভিয়েশনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। অভিযোগ আছে এই কর্মকর্তার অদক্ষতা, অলসতা ও অদুরদশীতার জন্য এখনো শাহজালালের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্রয় করার জন্য ১০০ কোটি টাকার বাজেট দিলেও তা কাটছাট করে মাত্র ৩০ কোটি টাকা করা হয়েছে। যার কারণে এখনো কোন নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। শাহজালালের রানওয়ে দেখা শুনার জন্যও ক্উে নেই।
বিমানবন্দর সুত্রে জানাগেছে, রিজেন্টের উড়োজাহাজটি টেকঅফের (উড্ডয়ন)আগ মুহুর্তে পাইলট ক্যাপ্টেন হাকিম ও ফাস্ট অফিসার ক্যাপ্টেন সাদিয়া দেখতে পান উড়োজাহাজের নোজহুইলের একটি চাকার নিচে কিছু একটা পড়ছে এবং টায়ার ফেটে গেছে। মুহুর্তে দুই পাইলট টেকঅফ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন এবং রাডারের মাধ্যমে বিষয়টি বিমানবন্দর কতৃপক্ষকে জানান। ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট কতৃপক্ষ ঘটনাস্থলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট পাঠান। নিয়ম অনুযায়ী রানওয়েতে কোন উড়োজাহাজ নষ্ট হলে দ্রুত রানওয়ে বন্ধ করে দিতে হয়।
এসময় যাতে কোন দুর্ঘটনা কিংবা আগুন লাগার ঘটনা না ঘটে সেজন্য দ্রুত ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকে নিয়োগ করতে হয়। বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানাগেছে রিজেন্টের ওই ফ্লাইটে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা উড়োজাহাজটির ইঞ্জিন ও বডিতে পানি ছিটান। পরে তারা জানতে পারেন এয়ারক্রাফটে আগুন লাগেনি, তবে একটি চাকার টায়ার ফেটে গেছে। ফাটা চাকা দেখে পাইলট দ্রুত টেকঅফ বাতিল করতে কড়া ব্রেক কষেন। এতে সবগুলো চাকার মধ্যে ধোয়ার সৃস্টি হয়।
রিজেন্টের চীফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আশিষ রায় চৌধুরী টেলিফোনে জানান, বিকল্প ফ্লাইটের মাধ্যমে ১১০জন যাত্রীকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তিনি বলেন, উড়োজাহাজের চাকা ফেটে যাওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পাইলট টেকঅফ বাতিল করে দ্রুত যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে দেন। দ্রুত গতির উড়োজাহাজটিতে কড়া ব্রেক করায় চাকার মধ্যে ধুয়া সৃস্টি হয়। একারণে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকে আসতে বলা হয়। তবে ফ্লাইটে কান আগুনের ঘটনা ঘটেনি।
মুজিব