ন্যাটোর ট্যাংক ও বিমান পেলে ইউক্রেন যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে?

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলা যুদ্ধ ১১ মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। এতে দুই পক্ষের বহু হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনও লক্ষণ নেই।

এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে ট্যাংক দিয়ে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর কাছে শুধু ট্যাংক নয়, যুদ্ধবিমানও চাইছেন। তবে এখনও কোনও দেশই তা দেবার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ্যাব্রামস বা লেপার্ডের মত ট্যাংক এবং এফ-সিক্সটিনের মত যুদ্ধবিমান দেওয়া হলে তা ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে দেবে।

অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন, এসব সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন রাশিয়ার বিরুদ্ধে রণক্ষেত্রে ইউক্রেনকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে তাই নয়, পশ্চিমা বিশ্ব বা ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোকেও এ যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলবে।

ইউক্রেনে এখন শীতকাল চলছে । মাটি বরফে ঢাকা, স্যাঁতসেতে নরম – যা ট্যাংকের মত ভারী সামরিক যান চলার উপযোগী নয়। কিন্তু মার্চ মাস থেকে ইউরোপে বসন্তকালের শুরু– তখন আবহাওয়া পাল্টাতে শুরু করবে এবং সেই সময়ই রাশিয়া নতুন উদ্যমে তাদের ‘স্প্রিং অফেন্সিভ’ শুরু করবে – এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৩ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এটাই হবে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। রাশিয়া ইতোমধ্যেই তাদের নতুন নিয়োগ করা ৫০ হাজার সৈন্যকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছে। সেইসঙ্গে দেশটি আরও প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার সৈন্যকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধের জন্য তৈরি করার কাজ শেষ করে এনেছে।

তাদের এ অভিযান ঠেকাতে ইউক্রেনের দরকার উন্নতমানের ট্যাংক। শুধু ট্যাংক নয়, তার সঙ্গে দরকার হবে কামান ও গোলাবারুদ, সেনা বহনকারী সাঁজোয়া যান এবং যুদ্ধ বিমান– যা আকাশ থেকে ট্যাংক বহরের অগ্রযাত্রাকে সুরক্ষা দেবে।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক বিজ্ঞানী ও বিশ্লেষক আন্দ্রেই পিওন্তকোভস্কি বিবিসিকে বলেছেন, এ যুদ্ধে ইউক্রেনের বিজয় নির্ভর করবে কত দ্রুতগতিতে ন্যাটো ট্যাংক, বিমান ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতে পারে তার ওপর।

রাশিয়া-ইউক্রেন সম্মুখ যুদ্ধ চলছে ১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই রাশিয়া দোনেৎস্ক, লুহানস্ক ও জাপোরিশা লক্ষ্য করে এক নতুন আক্রমণ শুরু করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ইউক্রেন চাইছে সেটাকে প্রতিহত করতে। কিন্তু তারা পশ্চিমা ট্যাংক পাবার আগেও এ আক্রমণ শুরু হয়ে যেতে পারে। ইউক্রেনের আরও একটা লক্ষ্য হচ্ছে নিজেদের হারানো ভূমি পুনরুদ্ধার করা।

এ দুটি উদ্দেশ্য সফল করতে হলে তাদের ট্যাংক দরকার। কিন্তু ইউক্রেনের কাছে যেসব ট্যাংক আছে তা সোভিয়েত-যুগের এবং পুরনো।

রুশ বিষয়ক বিশ্লেষক স্টেফেন ডিয়েল বলছেন, ইউক্রেন ৩০০ ট্যাংক চেয়েছিল তবে তারা যদি শ’খানেক ট্যাংকও পায় – এবং এর সাথে সাঁজোয়া যান, আর্টিলারি, বিমানবিধ্বংসী কামান– অর্থাৎ একটা যথাযথ ফরমেশনে যা যা থাকতে হয়, সেগুলো ঠিকমত থাকলে ইউক্রেন এ যুদ্ধে বিরাট সুবিধা পেয়ে যাবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.