বরিশাল থেকে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ ব্রিটিশ কোনো কোম্পানিকে দিয়ে করানো যায় কি না তা খুঁজে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বিআরটিসির বিকল বাস বিক্রি, জামালপুরে মেডিকেলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়াসহ আরও কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ব্রিটিশ কোম্পানি রেলপথ নির্মাণে অনেক দক্ষ। তাদের রেলপথ নির্মাণের কাজের মানও অনেক ভালো। সে জন্য বরিশাল থেকে পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ ব্রিটিশ কোম্পানিকে দেয়া যায় কি না খুঁজে দেখতে হবে।
এ প্রকল্পে চীন অর্থায়ন করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের বিষয়ে চীনের সঙ্গে একটি এমওইউ স্বাক্ষর হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো সমস্যা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কোনো চুক্তি নয়। ব্রিটিশ কোনো কোম্পানিকে কাজ দিলে সমস্যা হবে না। ব্রিটিশ কোম্পানি রেলপথ নির্মাণে অনেক দক্ষ। রেলে চীনা প্রতিষ্ঠানের মনোপলি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
একনেক সভায় ‘জামালপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জামালপুর নার্সিং কলেজ স্থাপন’ প্রকল্পের অনুমোদন হয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় জামালপুর মেডিকেল ও নার্সিং কলেজে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে সুযোগ রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় শিক্ষার্থীরা চিকিৎসক ও নার্স হতে পারলে স্থানীয় মানুষজনের চিকিৎসাসেবায় আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন। যেখানেই মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করা হবে, সেখানেই স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্থানীয় ডাক্তার ও নার্স বেশি থাকলে স্থানীয় মানুষ স্বাস্থ্যসেবা যেন আরও বেশি পেতে পারেন।
এছাড়া একনেক সভায় বিআরটিসির জন্য ৬০০টি বাস ও ৫০০টি ট্রাক কেনার আলাদা ২টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিকল ও নষ্ট বাস মেরামত করে জনগণের সেবা বাড়াতে হবে। তবে যেসব বাস একবারে বিকল ও পুনঃমেরামতের অযোগ্য সেসব বাস বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে টাকা জমা দিতে হবে।
সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সফর সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
জন কেরির সফরকে ‘সফল’ উল্লেখ করে কামাল বলেন, সফরকালে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ে জন কেরির আন্তরিক আগ্রহ সবার মন ছুঁয়ে গেছে। কেরি ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই ভিয়েতনামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন অন্য উচ্চতায়। তার সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও নতুন এক উচ্চতায় পোঁছবে।