আশায় বুক বেঁধে তাসকিন-সানির অস্ট্রেলিয়া যাত্রা

taskin-sani20160906010159ক্যাটাগরিকে মানদণ্ড ধরলে দু’জন সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের বাসিন্দা। এক জন ফাস্ট বোলার। অন্যজন বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার; কিন্তু দু’জনার কি অদ্ভুত মিল! ঠিক যেন গল্পের মতো। গত মার্চে ভারতের মাটিতে একসঙ্গে বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে বিশ্ব টি-টোয়েন্টি আসর থেকে ছিটকে পড়া। তারপর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সংগ্রাম। পাঁচ মাস পর আবার দু’জন একসঙ্গে একই ফ্লাইটে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে অস্ট্রেলিয়া রওয়ানা হওয়া।

তাসকিন আহমেদ আর আরাফাত সানি পরস্পর যেন এক অন্যরকম বন্ধনে আবদ্ধ! সোমবার দিবাগত রাতে জাতীয় দলের এ দুই বোলার অস্ট্রেলিয়ার পথে রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে করে তাসকিন- সানি রওয়ানা হলেন অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে।

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তাদের বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা ব্রিসবেনে। আগের দু’দিন জ্বরে কাবু হয়ে পড়েছিলেন আরাফাত সানি। ভক্ত ও সমর্থকরা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন, কি জানি জ্বর নিয়েই বুঝি অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ারের অগ্নি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে সানিকে?

প্রিয়জনের সে উদ্বেগ উৎকন্ঠা শেষ পর্যন্ত কেটেছে। সোমবার সকাল থেকেই জ্বর কমেছে। বিকেল থেকে আর আসেনি। শেষ খবর, জ্বরমুক্ত আরাফাত সানি সুস্থ্য শরীরেই ঢাকা ছেড়েছেন।

রাত সোয়া এগারাটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন অতিক্রম করে  মুঠোফোন আলাপে আরাফাত সানি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে এখন আর জ্বর নেই। দুপুর পর্যন্ত টনসিলের ব্যাথা ছিল, সেটাও নেই। আমি সুস্থ শরীরেই যেতে পারছি।’

এদিকে টানা প্র্যাকটিসের কারণে আগে প্রস্তুতি ও গোছগাছের ফুরসত মেলেনি। রাতে অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইট। তাই সোমবার দিনেই যতটা সম্ভব ব্যাগ গুছিয়ে নেয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন তাসকিন। তারপরও নতুন কোচ কোর্টনি ওয়ালশের সাথে দেখা করতে ঠিকই মাঠে গিয়েছিলেন তাসকিন।

তবে তিনি যখন শেরে বাংলায় গিয়ে উপস্থিত হন, ততক্ষনে জাতীয় দলের প্র্যাকটিস শেষ। নতুন কোচের সাথে আর তার দেখা হয়নি। ভেতওে ভেতরে একটা অব্যক্ত আফসোস-অনুশোচনা জাগতেই পারে। তাসকিন ভাবতে পারেন, ‘ইস কোচ কোর্টনি ওয়ালশ যদি আর সপ্তাহ খানেক আগে আসতেন। তাহলে হয়ত বোলিং অ্যাকশনটা আরও শুধরে নেয়া যেত।’

তবে  আলাপে অবশ্য অমন কোন কথা বলেননি তাসকিন। কথা বার্তায় মনে হয়নি এ নিয়ে কোন আফসোস আছে ভেতরে। কণ্ঠে যথেষ্ঠ আশাবাদী তাসকিনের আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ, ‘আমার মনে হয় এখন আর কোথাও সমস্যা নেই। বড় ধরনের সমস্যা আগেও ছিল না। বাউন্সারের সময় একটু জটিলতা দেখা দিচ্ছিল। সেটা শুধরে নেয়ার কাজ করেছি। আশা করছি এখন আর কোন সমস্যা নেই। আল্লাহর রহমতে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা ভালই হবে।’

তাসকিনের মত আশাবাদী আরাফাত সানিও। এ বাঁ-হাতি স্পিনারের একান্ত বিশ্বাস, তার বোলিং অ্যাকশনে এখন আর কোনো সমস্যা নেই। তাসকিনের দাবি, আমি যথেষ্ঠ পরিশ্রম করেছি। কোচ হাথুরু এবং রুয়ান কালপাগে সন্তুষ্ট। কালপাগে যাবার আগে আমার প্রায় সব ধরনের ডেলিভারিই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে গেছেন। কোন সমস্যা ধরা পড়েনি।’

তার বোলিং অ্যাকশনের সমস্যাসঙ্কুল জায়গা কোনটি? এ প্রশ্নের জবাবে সানি জানান, ‘কোন নির্দিষ্ট ডেলিভারি দিতে গিয়ে নয়, আমার সমস্যার জায়গা ছিল রানআপ এবং ফুট ল্যান্ডিং। বোলিং অ্যাকশনে তেমন কোন পরিবর্তন না আসলেও আমার রানআপ ও ফুট ল্যান্ডিংয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আমি আগে প্রায় হেঁটে হেঁটে বোলিং এন্ডে চলে যেতাম। এখন পরিবর্তিত রান আপে খানিকটা দৌড়ে ডেলিভারি দেই। এছাড়া ল্যান্ডিংয়ের সময় আমার পিছনের পা সোজা থাকতো। এতে করে সামনের বাহু একটু বেশি উন্মুক্ত হয়ে যেত। এখন ল্যান্ডিংয়ের সময় পিছনের পায়ের ওপর ভর দেই বেশি। এতে করে বাহু আর আগেরমত উন্মক্ত হয় না। ’

এদিকে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে তাসকিন-আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা। ছুটিতে অস্ট্রেলিয়া ফিরে যাওয়া হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও ওই পরীক্ষার সময় দুই বোলারের পাশে থাকবেন। তার আগে সিডনি থেকে ব্রিসবেন যাবেন বাংলাদেশ কোচ।

এক বুক আশা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া রওয়ানা হলেন তাসকিন আহমেদ এবং আরাফাত সানি। বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উৎরে হাসিমুখে দেশে ফিরে আসুন- এ প্রত্যাশাই সবার।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.