বিএনপির চারদিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে এবং বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবিতে গণমিছিল, লিফলেট বিতরণ ও পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। আজ শুরু হয়ে চারদিনের এ কর্মসূচি চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। গতকাল বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য আজ সারা দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অবিলম্বে দেশনেত্রীর মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে ১৭ আগস্ট (আগামীকাল) সারা দেশে লিফলেট বিতরণ করবে। সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ১৮ আগস্ট শুক্রবার যুগপৎ আন্দোলনের ধারায় ঢাকা মহানগরসহ সব মহানগরে গণমিছিল অনুষ্ঠানের কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ১৯ আগস্ট শনিবার সব মহানগর ও জেলা পর্যায়ে পদযাত্রা করবে বিএনপি।’

বিএনপি নেতাকর্মীদের কারাগারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘জেলহাজতে বিএনপিসহ বিরোধী দলের বেশকিছু নেতাকর্মী নিপীড়ন-নির্যাতনে এবং বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে ধুঁকতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। দেশের কারাগারগুলো কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অথচ এ সরকারের আমলে কারাগারে সবচেয়ে বেশি বিরোধী দলের নেতাকর্মী বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর স্বাধীনতার ঘোষকের সহধর্মিণী, যিনি বিপন্ন গণতন্ত্রকে এক অকুতোভয় নেতৃত্বে বারবার পুনরুদ্ধার করেছেন, দেশের আইনের শাসন, সুবিচার এবং মৌলিক মানবাধিকারের প্রতীক খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটক করে রাখা হয়েছে। এ আটক অন্যায়, অবৈধ ও কুৎসিত প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।’

আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠ শূন্য করার কৌশল নিয়েছে অভিযোগ করে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নিশি রাতের সরকার যেভাবে নির্বাচনী মাঠ শূন্য করার কৌশল গ্রহণ করেছিল, বর্তমানে তারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অদৃশ্য করা, গায়েবি মামলা, গণহারে গ্রেফতার, বাসায় বাসায় অভিযান, বিচারাধীন মামলায় জেলগেট থেকে বারবার গ্রেফতার কারাবন্দি করে রাখার খেলায় মেতেছে সরকার। মূলত ২০১৮ সালে কোনো নির্বাচন হয়নি, এটি ছিল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং ভোটের নামে অভিনব প্রহসন।’

দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টুকে মায়ের জানাজায় অংশ নিতে না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘প্যারোলের অনুমতি পাওয়া সত্ত্বেও মায়ের লাশ দেখতে দেয়া হয়নি সাবেক মন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে। প্যারোলে মুক্তির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও জেলগেটে গাড়িতে ওঠানোর সময় তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। ওপরের নির্দেশেই নাকি তাকে মায়ের জানাজায় অংশ নিতে দেয়া হয়নি।’

তিনি এ ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানান।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.