ফিরতি যাত্রায় কমেছে ভোগান্তি

kamlapur01ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড় বেড়েছে কমলাপুর রেল স্টেশন এবং বিভিন্ন বাস টার্মিনালে।

যাত্রীরা বলছেন, ঈদের আগে যে যানজট ছিল তার আর নেই; যাত্রীদের চাপও তুলনামূলক কম। তবে কোনো কোনো বাস বাড়তি ভাড়া নিয়েছে। সব মিলে ফিরতি এই যাত্রায় ‘তুলনামূলক কম ঝক্কি’ পোহাতে হয়েছে।

কমলাপুর রেল স্টেশনে শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫টি ট্রেন এসেছে। এগুলোর দুয়েকটি বাদে বেশিরভাগই নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছায়; ছিল না তেমন ভিড়ও।

জামালপুরের তারাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেন পৌঁছায় সকাল সাড়ে ৮টায়। ট্রেনটিতে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও তা ‘উপচে পড়া’ ছিল না।

ঈদের ছুটি জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে কাটিয়ে ওই ট্রেনে ঢাকা ফিরেছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন।

পথে কোনো ভোগান্তিতে পড়েননি জানিয়ে তিনি বলেন, “ঈদের সময়টা বাড়িতে খুব ভালোভাবে কাটিয়েছি। ব্যাপক আনন্দ করেছি। ট্রেনও ঠিক সময়ে ছেড়েছে। ঢাকা ফেরার পথে কোনো ঝামেলা হয়নি।”
এবারের ঈদযাত্রা ‘গতবারের চেয়ে ভালো’ মনে হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোখলেসুর রহমানেরও।

জামালপুরের সরিষাবাড়ি থেকে যমুনা এক্সপ্রেসে চড়ে সকালে কমলাপুর পৌঁছান তিনি।

“যাওয়ার সময় এবার তেমন ভিড় ছিল না। আসার পথে সামান্য ভিড় ছিল। তাও গতবারের চেয়ে অনেক কম,” বলেন মোখলেসুর।

আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তা তৌহিদুল আলম চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছেন সুবর্ণ এক্সপ্রেসে।

এবারের ঈদযাত্রা আগে-পরে ভালোই ছিল মন্তব‌্য করে  বলেন, “ট্রেন টাইমলি গেছে, টাইমলি এসেছে।”

তবে দুপুরে জামালপুর থেকে আসা জামালপুর কমিউটার ট্রেনে ভিড় ছিল অনেক বেশি; ট্রেনটির ছাদে চড়ে আসতে দেখা গেছে অনেককে।
ট্রেনটি দুই ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায় কম-বেশি ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

জামালপুর থেকে আসা পুলিশ সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, ট্রেন দেরি করায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

“ট্রেনটি আধা ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। তারপর প্রত্যেক স্টেশনেই যাত্রী তোলার সময় বেশি সময় নিয়েছে। এসব কারণে দুই ঘণ্টা দেরি হয়েছে।”

শনিবার বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো এসেছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর রেল স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্ত্তী।

তিনি বলেন, দুপুর ১টা পর্যন্ত ২৫টি ট্রেন কমলাপুরে এসেছে, ছেড়ে গেছে ২৮টি।
যাত্রীদের চাপ ‘মোটামুটি’ মন্তব‌্য করে কমলাপুর রেল স্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু বলেন, “ঈদের আগে ঢাকা থেকে সবাই প্রায় একসঙ্গে যায় বলে ভিড় বেশি থাকে। কিন্তু আসার পথে ধীরে-সুস্থে আলাদাভাবে আসে। এজন্য ভিড় তেমন থাকে না।”

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসা বিভিন্ন রুটের বাসেও তেমন ভিড় দেখা যায়নি।

কয়েকজন যাত্রী  জানান, সড়কের কোথাও যানজট না থাকায় আসতে তেমন সমস্যা হয়নি। তবে ফিরতি যাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন তাদের কেউ কেউ।

ঈদ শেষে পরিবারের সঙ্গে চাঁদপুরের কচুয়া থেকে ঢাকা এসেছেন ব্যবসায়ী ইউনুস খান।

পথে কোনো ভোগান্তি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “গাড়ি ঠিক সময়ে ছেড়েছে। পথেও কোনো যানজট ছিল না। খুব তাড়াতাড়ি চলে এসেছি। তবে ভাড়া পঞ্চাশ টাকা বেশি নিয়েছে।”
তবে একই রুটের যাত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত রহমান বলেন, ঈদের আগে বেশি ভাড়া দিলেও ফেরার পথে ভাড়া ঠিকই ছিল।

“যাওয়ার সময় ৪০০ টাকায় গিয়েছি। আসার পথে ২০০ টাকা নিয়েছে।”

হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দিগন্ত পরিবহনের বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স‌্যুরেন্সে কোম্পানির কর্মকর্তা এহসানুল হক লিপু।

“অন্য সময় এই বাসে ৩০০ টাকা করে ভাড়া নেয়। আজ নিল ৪০০ টাকা করে।”

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.