সম্প্রতি বিএনপির ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি যে একটা সন্ত্রাসী দল, তা আবারও প্রমাণ করল। কানাডার আদালত এ বিষয়টি কয়েকবার বলেছে।
আজ মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট— এরা যে সন্ত্রাসী এবং বিএনপি যে একটা সন্ত্রাসী দল এটাই তারা আবার প্রমাণ করলো। কানাডার কোর্ট-ও কিন্তু এই বিষয়টা কয়েকবার বলেছে। এখানে যারা এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে সেখানে আশ্রয় চাইতে গিয়েছিল, তারা কিন্তু পায়নি, সন্ত্রাসী দল হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। মাঝখানে তারা কিছুটা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছিল এবং আপনারা বিশেষভাবে লক্ষ্য করছিলেন আমাদের সরকার তাদের তেমন কোনও বাধা দেয়নি, কিছুই দেয়নি। তাদের ওপর সবসময় একটাই শর্ত ছিল যে, তারা কোনও রকম অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর করবে না। তারা যখন সুস্থভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি করছিল, তখন কিন্তু তারা মানুষের আস্থা-বিশ্বাস ধীরে ধীরে অর্জন করতে শুরু করেছিল। কিন্তু গত ২৮ তারিখ (অক্টোবর) তাদের যে ঘটনা, বিএনপি যেসমস্ত ঘটনা ঘটালো, বিশেষ করে যেভাবে পুলিশকে হত্যা করেছে, মাটিতে ফেলে যেভাবে কোপালো, সাংবাদিকদের ওপর হামলা করলো, পেটালো এবং এই ঘটনার পরে জনগণের ধিক্কার ছাড়া বিএনপির আর কিছুই জুটবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স পুড়িয়েছে, সেখানেও পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে। আজকে ইসরায়েল ফিলিস্তিনির অক্টোবর যেভাবে হামলা করছে, এখানে হাসপাতালে বোমা হামলা করল, নারী শিশুদের অত্যাচার করেছে, তাদের সবকিছু বন্ধ করে রেখে দিয়েছে, আমি তফাত কিছু দেখতে পারছি না। আমরা এর নিন্দা জানাই।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে নিজেরাই পালালো, পালিয়ে গিয়ে এখন আবার অবরোধের ডাক। কীসের অবরোধ? কার জন্য অবরোধ? যখন সারা বিশ্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে প্রশংসা করছে তখন তাদের কাজ হলো বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। বাংলাদেশের এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, দেখাবে বাংলাদেশে কিছু হয়নি। তাদের হামলা শিকার একদিকে পুলিশ, আর হচ্ছে সাংবাদিক। এদের ওপর তারা হামলা চালিয়ছে। সেগুলো কারা করেছে, তাদের নাম ডাক….। তারতো প্রকাশ্যে করেছে। শুধু তাই নয়, গতকালকে তারা লালমনিরহাটে আমাদের যুবলীগের একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এভাবে হত্যা করা আর মানুষের কেন সাংবাদিকদের তারা চড়াও হলো? সাংবাদিকরা তাদের পক্ষে ভালো ভালো নিউজ দিচ্ছিল। টকশোতে ভালো ভালো কথা। বরং সরকারের দোষটাই সাংবাদিকরা বেশি দেখে। তাহলে তাদের রাগটা কেন সাংবাদিকদের ওপর হলো? সেটাই বুঝতে পারলাম না।
