ভিয়েটজেটের বিস্ময়কর উত্থান: এশিয়া পেরিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার পথে

অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তানের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারে অভাবনীয় সাফল্যের মধ্য দিয়ে ভিয়েটজেট বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। এয়ারলাইনটির আসন পূর্ণতার হার ধারাবাহিকভাবে ৮৬ শতাংশের বেশি থাকায় যাত্রী চাহিদার শক্ত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে মোট আয়ের ৪১ শতাংশেরও বেশি এসেছে আনুষঙ্গিক সেবা খাত থেকে, যা প্রতিষ্ঠানটির বহুমুখী ব্যবসায়িক সক্ষমতার প্রতিফলন। এর ফলে ভিয়েটজেট এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা ব্র্যান্ডগুলোর কাতারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে ভিয়েটজেট তাদের পরবর্তী প্রজন্মের বিমানবহরে ব্যাপক বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ১০০টি অত্যাধুনিক এয়ারবাস এ৩২১নিও উড়োজাহাজের অর্ডার দিয়েছে, পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০টি কেনার সুযোগও সংরক্ষণ করেছে। এছাড়া ২০টি ওয়াইড-বডি এয়ারবাস এ৩৩০নিও বিমান যুক্ত করার পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক সম্প্রসারণ কৌশলকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে রোলস-রয়েস, সিএফএম ও প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযুক্তিগত অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করছে ভিয়েটজেট। এই বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই এয়ারলাইনটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবহর উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানের মর্যাদায় নিয়ে গেছে।

২০২৫ সালে ভিয়েটজেট ১ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে ২ কোটি ৮২ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। একই বছরে প্রতিষ্ঠানটি ৮২.০৯ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামী ডং (প্রায় ৩.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সমন্বিত রাজস্ব এবং ২.১২ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামী ডং কর-পরবর্তী মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের তুলনায় ৫১.২ শতাংশ বেশি এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও অতিক্রম করেছে। বর্তমানে ১৩৫টিরও বেশি উড়োজাহাজ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক ও অস্ট্রেলিয়া জুড়ে ২৫৪টি রুট পরিচালনার মাধ্যমে ভিয়েটজেট ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও দ্রুত কার্যক্রম বিস্তার করছে।

ভিয়েটজেটের সিইও নগুয়েন থান সন বলেন, “এই সাফল্য আমাদের দক্ষ পরিচালনা, উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোটি কোটি যাত্রীর আস্থার ফল। ভিয়েটজেট শুধু শহর ও দেশকে সংযুক্ত করে না, বরং মানুষের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎকেও এক সুতোয় গেঁথে দেয়।”

বিমানবহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাত্রীসেবায়ও নতুন মানদণ্ড তৈরি করছে ভিয়েটজেট। নমনীয় টিকিট ব্যবস্থা, ভিয়েতনামী ও আন্তর্জাতিক রন্ধনসেবা, উন্নত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ব্যক্তিগতকৃত ভ্রমণ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক বিমান ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলছে।

ভিয়েটজেট এখন আর শুধু একটি এয়ারলাইন নয়—এটি বৈশ্বিক সংযোগ, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক শক্তিশালী প্রতীক।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.