৭৩ শতাংশ রাজস্ব জাপানকে দিয়েই চালু হচ্ছে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল
দরকষাকষি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে টার্মিনালটির পরিচালনা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল অবশেষে চালুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের জটিলতা, দরকষাকষি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে টার্মিনালটির পরিচালনা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, আগামী ১৬ জুলাই জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬ ডিসেম্বর নতুন এই টার্মিনাল উদ্বোধন করা হতে পারে।
বেবিচকের সদস্য (অপারেশন) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, পরিচালনাসংক্রান্ত প্রায় সব প্রক্রিয়াই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত ১৭ মে জাপানি প্রতিষ্ঠানের কাছে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৪২ দিনের মধ্যেই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, থার্ড টার্মিনালের রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। অবশেষে যে কাঠামোতে দুই পক্ষ একমত হয়েছে, তাতে পরিচালনাসংশ্লিষ্ট চারটি প্রধান খাত থেকে অর্জিত আয়ের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি কনসোর্টিয়াম এবং বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ। এই খাতগুলো হলো— এমবার্কেশন ফি, দোকান ও লাউঞ্জ ভাড়া, কার্গো হ্যান্ডলিং চার্জ এবং কার পার্কিং ভাড়া। এসব খাত থেকে রাজস্ব আদায় ও পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে জাপানি প্রতিষ্ঠানের হাতে।
তবে বিমানবন্দরের কৌশলগত ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই থাকবে। ওভারফ্লাইং চার্জ, বিমান অবতরণ ফি, কাস্টমস, নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সরাসরি বেবিচকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। ফলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, টার্মিনালের অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আয় বণ্টন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে চালু হওয়া বারবার পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি সরকার জাপানি পক্ষের প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার পর আলোচনায় নতুন গতি আসে। অতিরিক্ত কাজের বিল পরিশোধও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
জাপানি প্রতিনিধিরা টোকিওর হানেদা ও নারিতা বিমানবন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে দাবি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী ১৫ বছরে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো সক্ষমতা দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রফতানি খাতে গতি সৃষ্টির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমান পরিবহন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। যাত্রীসেবা আরও আধুনিক ও গতিশীল হবে, বাড়বে যাত্রী ধারণক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট পরিচালনা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে কার্গো পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন দেশের অর্থনীতি ও রফতানি খাতকে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
