ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি চাপে চীনের এয়ারলাইন্স
সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে চীনের শীর্ষ তিন রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বিমান খাত যখন বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপে পড়েছে, তখন সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে চীনের শীর্ষ তিন রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ জ্বালানি মূল্য, যাত্রীদের ব্যয়সংকোচন এবং দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের বিস্তারের কারণে ২০২৬ সাল চীনের বিমান খাতের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।
চীনের তথাকথিত ‘বিগ থ্রি’ বিমান সংস্থা— এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স এবং চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স — চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফায় ফিরলেও পুরো বছরে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিনটি সংস্থার সম্মিলিত লোকসান ২২ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই চাপ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক জেট ফুয়েল সূচকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে প্রতি ব্যারেলের দাম ছিল ৯৩ ডলার, যা মার্চে বেড়ে ২৪২ ডলারে পৌঁছে যায়। বর্তমানে কিছুটা কমলেও তা এখনও অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্বের অনেক বিমান সংস্থা আগাম চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি মূল্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করলেও চীনের বিমান সংস্থাগুলো তুলনামূলক কম হেজিং করে থাকে। ফলে জ্বালানি দামের ওঠানামার পুরো চাপ তাদের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে এয়ার চায়না ও চায়না সাউদার্ন প্রায় কোনো হেজিং ছাড়াই বাজারে প্রবেশ করেছিল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে চীনা এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ আরোপ শুরু করেছে। এপ্রিল থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে এই অতিরিক্ত চার্জ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে পুরো ব্যয় পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। কারণ চীনের যাত্রীরা অত্যন্ত মূল্যসংবেদনশীল এবং দেশজুড়ে বিস্তৃত দ্রুতগতির রেলব্যবস্থা বিমান ভ্রমণের বড় বিকল্প হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে বেইজিং, সাংহাই ও অন্যান্য বড় শহরের মধ্যে উচ্চগতির ট্রেন যাত্রীরা কম খরচে দ্রুত ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে বিমান ভাড়ায় অতিরিক্ত চাপ দিলে যাত্রীসংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোও সংকটে থাকলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে চীনা এয়ারলাইন্সগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। কারণ ভারতে এখনও উচ্চগতির রেলব্যবস্থা সীমিত এবং বিমান সংস্থাগুলোর ভাড়া সমন্বয়ের সুযোগ বেশি।
তবে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এয়ারলাইন্সগুলোর বড় ভরসা হলো সরকারি সহায়তা। প্রয়োজন হলে সরকার মূলধন সহায়তা দিয়ে এসব সংস্থাকে টিকিয়ে রাখতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
