বেক্সিমকোর হ্যাঙ্গার দখল করে নিল সাবেক বিমান উপদেষ্টা বশির

ঢাকা: তড়িঘড়ি করে এভিয়েশন ব্যবসায়ী হতে  নানা অনিয়ম, প্রতারণা ও ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কথিত সৎ বেসামরিক বিমান উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন–এর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে Beximco Aviation এবং একই অবকাঠামো ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে Akij Bashir Aviation।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বেক্সিমকো এভিয়েশনের এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট (এওসি) জমা দেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় একই ব্যক্তি নতুন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আবার এওসির আবেদন করেন। বিষয়টিকে ঘিরে বিমান খাতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বেক্সিমকো এভিয়েশনের সাবেক এবং আকিজ বশির এভিয়েশনের বর্তমান সিইও ক্যাপ্টেন গুলজার হোসাইন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো চাপের মুখে পড়ে বেক্সিমকো এভিয়েশনও। পরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের জন্য সিভিল এভিয়েশনে আবেদন করা হয়।

যদিও সিইও ক্যাপ্টেন গুলজার হোসাইন দাবি করেছেন, এটি ছিল মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত। তবে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই বেক্সিমকো এভিয়েশন বন্ধ করে আকিজ বশির এভিয়েশনকে দ্রুত লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বেক্সিমকো এভিয়েশনের সাবেক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল প্রতিষ্ঠানটির শেষ কর্মদিবস। এরপর ৪ মার্চ এওসি ও হ্যাঙ্গার সারেন্ডারের আবেদন করা হয়। অথচ জুন পর্যন্ত হ্যাঙ্গারের বরাদ্দ বহাল থাকার কথা থাকলেও মার্চ থেকেই সেখানে আকিজ বশির এভিয়েশনের কার্যক্রম শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিয়মবহির্ভূত একটি ভিআইপি ফ্লাইট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ফ্লাইটে যাত্রী ছিলেন তৎকালীন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, নির্ধারিত কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়েছিল।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হেলিকপ্টার জোন ঘুরে দেখা গেছে, পূর্বের বেক্সিমকো এভিয়েশনের হ্যাঙ্গারেই বর্তমানে আকিজ বশির এভিয়েশনের কার্যক্রম চলছে। সেখানে বেক্সিমকোর নিবন্ধিত কয়েকটি হেলিকপ্টারও দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেখ বশির উদ্দিন। তার দাবি, হ্যাঙ্গার বরাদ্দ বা আগের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সংস্থা Biman Bangladesh Airlines–এর চেয়ারম্যান হওয়া নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি অধীনস্থ সংস্থা থেকে হেলিকপ্টার ব্যবসার লাইসেন্স নিতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.