মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অগ্রগতির পর অঞ্চলটির কয়েকটি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অগ্রগতির পর অঞ্চলটির কয়েকটি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত, ইসরায়েল, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য পূর্বে জারি করা সর্বোচ্চ স্তরের ‘ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন এসব দেশের জন্য সতর্কতার মাত্রা কমিয়ে ‘ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করুন’ পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে উভয় পক্ষের সম্মতির পর। সুইজারল্যান্ডে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অনেকটাই কমে আসতে পারে।

বুধবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, অঞ্চলটির কিছু অংশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তৃতীয় স্তরের সতর্কতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ স্থগিত রাখার পরামর্শ বহাল রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করার অর্থ শুধু গন্তব্য নয়, ট্রানজিট বা যাত্রাবিরতির ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা। যদি এসব দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে সেখানে অবস্থানের সময় যতটা সম্ভব কম রাখতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম এড়িয়ে চলতে হবে।”

তবে ইরান, ইরাক, লেবানন, ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও ইয়েমেনের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার ‘ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতা এখনও বহাল রয়েছে। এসব দেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সংঘাতের আশঙ্কা অব্যাহত থাকায় সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় অঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় অস্ট্রেলিয়া সর্বোচ্চ স্তরের ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে। তবে ইসরায়েল ও লেবাননের সীমান্তে চলমান সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.